
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১০ দিনের টানা বৃষ্টি ও অতিরিক্ত জোয়ারে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে কৃষিজমি, মাছের ঘের, বসতভিটা ও সড়কের ক্ষয়ক্ষতি বেড়েছে। বর্ষা মৌসুমে বেড়িবাঁধের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হরনী, চানন্দী, সুখচর, নলচিরা, চরঈশ্বর, চরকিং, তমরদ্দি, সোনাদিয়া, বুড়িরচর ও জাহাজমারা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বিশেষ করে চানন্দী ইউনিয়নের প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকায় দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে নদীতীর সংরক্ষণ না করলে বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাকের উদ্দিন, মোস্তাফা, খায়ের, জামাল উদ্দিন, মোতালেব ও কাওসার আহমেদ বলেন, কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, কৃষিজমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বর্ষা এখনও শেষ হয়নি। তাই দ্রুত জিও ব্যাগ বরাদ্দ দিয়ে বেড়িবাঁধ মেরামত এবং খাল সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক হিসাবে, গত দুই সপ্তাহের ভারী বর্ষণে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া কৃষি ও অকৃষি মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, ভারী বর্ষণ ও অতিরিক্ত জোয়ারে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় এক হাজার পরিবারের কাছে শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় জিও ব্যাগ ও টিউব ডাম্পিংয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :