
লাখোকণ্ঠ অনলাইন ডেস্কঃ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ দুপুরে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’-এ স্বাক্ষর করেছেন। এর মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো এখন গণভোটে তোলার পথ সুগম হলো। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মধ্যস্থতায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত হওয়া সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ওপর জনগণের মতামত নেওয়া হবে এই গণভোটে।
একই দিন বিকেলে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ধারণা করা হচ্ছে, এই ভাষণেই তিনি গণভোটের তারিখ ঘোষণা করবেন। তাঁর ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিটিভি নিউজ ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে বিকেল আড়াইটা থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
এর আগে, রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
গত ২৮ অক্টোবর জাতীয় ঐকমত্য কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দুটি বিকল্প প্রস্তাব জমা দিয়েছিল। উভয় বিকল্পেই সংবিধান সংস্কারের জন্য গণভোটের আয়োজন এবং একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে।
সরকার ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ জারি করবে, যা সনদভুক্ত সংবিধান সংশোধনগুলো কার্যকর করবে।
এই আদেশ এবং তার তফসিল-১-এ থাকা সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত একটি পূর্ণাঙ্গ খসড়া বিল গণভোটে উপস্থাপন করা হবে।
বাস্তবায়ন আদেশ জারির পর জাতীয় সংসদ ও একইসাথে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে, যা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গাঠনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।
গণভোটে ইতিবাচক সম্মতি পেলে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ সেটি বিবেচনা করবে। তবে, পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ২৭০ দিনের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে, গণভোটে অনুমোদিত সংবিধান সংস্কার বিলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে।
সরকার ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ জারি করবে, যার একটি খসড়া প্রস্তাবে সংস্কারগুলো সন্নিবেশিত থাকবে।
এই আদেশ এবং তার তফসিল-১-এ থাকা জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবগুলো গণভোটে উপস্থাপন করা হবে।
বাস্তবায়ন আদেশ জারির পর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে, যা সংবিধান সংস্কারে গাঠনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।
পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ২৭০ দিনের মধ্যে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে আদেশের তফসিল-১-এ বর্ণিত জুলাই জাতীয় সনদ অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে এবং এর পর পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।
কমিশন গণভোটে যে প্রশ্নটি উপস্থাপনের প্রস্তাব করেছে তা হলো: “আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং উহার তফসিল-১ এ সন্নিবেশিত সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করিতেছেন?
আপনার মতামত লিখুন :