
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভগবান বিষ্ণুর অষ্টম অবতার শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল মথুরায় কারাগারে। তাঁর জন্মকাহিনির সঙ্গে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের বিজয়ের বিষয়টি গভীরভাবে যুক্ত।
জন্মাষ্টমীর মূল তাৎপর্য শুধু ধর্মীয় আচার পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও উপদেশ মানুষকে সত্য, ন্যায়, মানবিকতা, ভালোবাসা এবং আত্মসংযমের পথে চলতে অনুপ্রাণিত করে।
উৎসব উপলক্ষে অনেক ভক্ত উপবাস পালন করেন এবং রাত জেগে প্রার্থনা ও নামসংকীর্তনে অংশ নেন। মন্দির ও বাড়িতে শ্রীকৃষ্ণের বাল্যরূপের প্রতিকৃতি বা বিগ্রহ সাজানো হয়। দুধ, দই, মাখনসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে ভোগ নিবেদনেরও প্রচলন রয়েছে।
জন্মাষ্টমীকে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় সংগীত, কীর্তন, আলোচনা, নাট্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ‘দহি হান্ডি’সহ বিশেষ আয়োজনও দেখা যায়।
বাংলাদেশেও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে জন্মাষ্টমী পালন করেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরকেন্দ্রিক পূজা, কীর্তন ও অন্যান্য কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা ও জন্মকাহিনির অন্যতম বার্তা হিসেবে তুলে ধরা হয়—অন্যায় ও অশুভ শক্তি যতই প্রবল হোক, শেষ পর্যন্ত সত্য ও ন্যায়ের জয় হয়। এ কারণে জন্মাষ্টমী ভক্তদের কাছে ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ ও সম্প্রীতির বার্তাবাহী একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন।
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :