
ভারতে এবার ১৫ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ পালিত হওয়া উপলক্ষে আরএসএস প্রভাবিত ‘বঙ্গীয় সনাতনী সংস্কৃতি পরিষদ’ এই প্রচার শুরু করেছে। এমনকি কলকাতায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাংস্কৃতিক শাখায় (আইসিসিআর) ‘শশাঙ্ক থেকে বর্তমান’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছে। খবর বিবিসি বাংলার।
পহেলা বৈশাখ: নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান স্লোগানে বর্ষবরণ আজ
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএসের তাত্ত্বিক নেতা জিষ্ণু বসুর মতে, বিজ্ঞানী ও ইতিহাসবিদদের আধুনিক গবেষণা বলছে আকবরের পক্ষে বঙ্গাব্দ চালু করা সম্ভব ছিল না। কারণ ‘আইন-ই-আকবরী’তে এই সালের কোনো উল্লেখ নেই এবং আকবর কখনো বাংলার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পাননি। হিন্দুত্ববাদীদের দাবি, রাজা শশাঙ্ক ৫৯৩ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং তখন থেকেই বঙ্গাব্দ চালু হয়। বর্তমান ১৪২৯ বাংলা সনের সঙ্গে খ্রিস্টীয় অব্দের ব্যবধানও ঠিক ৫৯৩ বছরের, যা এই তত্ত্বকে সমর্থন করে বলে তারা মনে করেন।
তবে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন তার গবেষণায় সম্রাট আকবরকেই বঙ্গাব্দ’র প্রবর্তক হিসেবে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করেছেন। ষাটের দশকে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্-র নেতৃত্বাধীন কমিটিও একই মত দিয়েছিল যে, ১৫৮৫ সালে আকবর এই সন চালু করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কিংশুক চ্যাটার্জি মনে করেন, শশাঙ্কর আমলে বাংলা ভাষাই তৈরি হয়নি, তাই তার পক্ষে এই সাল চালু করা অবাস্তব। বরং খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে আকবরের দূতরাই হিজরী ও শকাব্দর সমন্বয়ে বঙ্গাব্দ চালু করেছিলেন।
ইতিহাসবিদ অরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, ফসল কাটার ভিত্তিতে ‘ফসলি’ সনের রেওয়াজ ভারতে আগে থেকেই ছিল, আকবর হয়তো সেটিকে বাংলায় ‘রেগুলারাইজ’ করেছিলেন। অন্যদিকে গবেষক তমাল দাশগুপ্তের মতো কেউ কেউ মনে করেন, শশাঙ্কর দাবিই সবচেয়ে জোরালো। কারণ মুর্শিদাবাদ অঞ্চলে শশাঙ্কর আমলের শৈব-তান্ত্রিক উৎসব আজও টিকে আছে। হিন্দু রাজা শশাঙ্ককে তার ‘প্রাপ্য গৌরব’ ফিরিয়ে দেওয়ার এই প্রচেষ্টার পেছনে ঐতিহাসিক বিতর্কের পাশাপাশি রাজনৈতিক মাত্রাও দেখছেন বিশ্লেষকরা।
আপনার মতামত লিখুন :