
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৭ মে) পূর্ববর্তী বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন রাজ্যপাল আর এন রবি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ভারতের সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদের (২) ধারার (খ) উপ-ধারার অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে, আমি ২০২৬ সালের ৭ মে থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দিচ্ছি।’
গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে ২০০ এর বেশি আসনে জয় পায় বিজেপি। এর ফলে রাজ্যটিতে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের সুযোগ পায় হিন্দুত্ববাদী দলটি।
তবে প্রথা অনুযায়ী মমতা বন্দোপাধ্যায় রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান। এতে করে সেখানে সাংবিধানিক সংকট তৈরির শঙ্কা তৈরি হয়। তবে এর আগেই বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজ্যপাল মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়েছেন। এখন নতুন মন্ত্রিসভা নির্বাচিত হবে এবং নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অন্য কাউকে নির্বাচন করা হবে।
ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে, বিজেপি নেতারা ঠিক করেছেন, আগামী ৯ মে, শনিবার রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর দিন তাদের মন্ত্রীরা শপথ নেবেন।
এদিকে সরকার গঠনের আগে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারীকে হত্যার ঘটনায় থমথমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। এরইমধ্যে হত্যায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের পাশাপাশি বাড়ি-ঘর ভাঙচুরের খবরও পাওয়া গেছে।
বুধবার (৬ মে) স্থানীয় সময় রাতে কলকাতা থেকে ফেরার পথে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ায় শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারীর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন চন্দ্রনাথ রথ। গুলিবিদ্ধ হন চালক বুদ্ধদেব বেড়া।
এ ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। হামলায় জড়িতদের ধরতে চলছে সাঁড়াশি অভিযান। এরইমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হামলাকারীদের শনাক্তে সিসিটিভি ছবি বিশ্লেষণের পাশাপাশি বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছে নিরাপত্তা বাহিনী। হামলায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে করা হচ্ছে জিজ্ঞাসাবাদ।
শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী হত্যার ঘটনায় বিজেপির সন্দেহের তীর মমতার দলের দিকে। তবে তৃণমূল এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সব হত্যার ঘটনার তদন্তের আহ্বান দলটির।
আপনার মতামত লিখুন :