
উত্তরার বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) কার্যালয়ে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান–এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। ডেভিড পাইন বলেন, বাংলাদেশ কোন কোন ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের সহযোগিতা চায়, তা বিস্তারিতভাবে জানালে দেশটি ইতিবাচকভাবে সহযোগিতার বিষয়ে এগিয়ে আসবে।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বিজিএমইএ। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রচলিত বাজারের বাইরে নিউজিল্যান্ডের মতো সম্ভাবনাময় বাজারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যার ৯৪ শতাংশই তৈরি পোশাক। বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বর্তমান বোর্ড পোশাক খাতের পাশাপাশি টেক্সটাইল, ফুটওয়্যার, ফার্মাসিউটিক্যালস ও ফার্নিচার শিল্পের বহুমুখীকরণে কাজ করছে। এসব খাতে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বৈঠকে তৈরি পোশাক খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং এ খাতে নিউজিল্যান্ডের কারিগরি সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। এ সময় বিজিএমইএ সভাপতি এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য নিউজিল্যান্ড সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
নিউজিল্যান্ডের বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের ব্র্যান্ড ভিজিবিলিটি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে ডেভিড পাইন বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের নিউজিল্যান্ডে আয়োজিত আন্তর্জাতিক এক্সপো ও ট্রেড ফেয়ারে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল নিউজিল্যান্ড সফর করলে হাইকমিশন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে। বৈঠকে বিজিএমইএ ও নিউজিল্যান্ড হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজিএমইএ নিয়ে আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন এখানে
আপনার মতামত লিখুন :