
শনিবার সকালে ভারতের অভ্যন্তরে তিনবিঘা করিডর সড়কের পাশে বিএসএফের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত বৈঠক চলে।
বৈঠকে ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ১৭৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট ভিনোদ রেঢু ও ৩০ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট এস নারায়ণ মিশরা। বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিজিবি রংপুর-৫১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান।
এর আগে সকালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেখলিগঞ্জের বিধায়ক দধিরাম রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, সীমান্ত এলাকায় চলমান কাজ বন্ধ হবে না এবং ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে আলোচনা চলবে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বিএসএফ দাবি করেছে, শূন্যরেখা থেকে ৫০ গজের মধ্যে জমি অধিগ্রহণের উদ্দেশ্যে তিন ফুট উচ্চতার বাঁশের খুঁটি স্থাপন করা হয়েছিল। এ সময় বিজিবি সদস্যরা অস্ত্র তাক করে ফায়ারিং পজিশনে যায়, যা বিএসএফ অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করে।
জবাবে বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়, ১৯৭৪ সালের সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা যায় না। সীমান্ত আইন উপেক্ষা করে খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা করায় আত্মরক্ষামূলক অবস্থান নিতে বাধ্য হয় বিজিবি।
বিজিবি আরও জানায়, সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে হলে তা অবশ্যই ১৫০ গজের বাইরে করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে শূন্যরেখায় কোনো ধরনের কাজ শুরুর আগে দুই বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বৈঠক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার বিষয়েও বিএসএফকে অবহিত করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার দহগ্রাম সীমান্তের তিনবিঘা করিডরের শূন্যরেখার ১০ থেকে ২০ গজের মধ্যে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় শ্রমিকেরা মাপজোখ শুরু করেন। এ সময় সীমান্ত আইন অমান্য করে বাঁশের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা করা হলে বিজিবির পানবাড়ী কোম্পানির কমান্ডার সুবেদার সোলেমান আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধের আহ্বান জানান।
লালমনিরহাটের আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন এখানে
আপনার মতামত লিখুন :