নিউজ করার পরেও নীরব প্রশাসন : কমলগঞ্জে মরণফাঁদে পরিণত সড়ক, সংস্কারের নামে শুধু আশ্বাস!


মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ ৮৭
নিউজ করার পরেও নীরব প্রশাসন : কমলগঞ্জে মরণফাঁদে পরিণত সড়ক, সংস্কারের নামে শুধু আশ্বাস!

মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি :মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ৯নং ইসলামপুর ইউনিয়নের উত্তর কুমড়াকাপন থেকে নারায়ণপুর হয়ে মুন্সিবাজার মুখী পিচ রাস্তাটি এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এক ভয়াবহ মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের চরম অভাব, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং নিউজ প্রকাশের পরেও প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় স্থানীয় হাজারো মানুষের ক্ষোভ এখন আকাশচুম্বী।সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটির পিচ ও খোয়া সম্পূর্ণ উঠে গিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য বিপজ্জনক খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে ডোবায় রূপ নেয়, আর পুরো সড়কটি কাদামাটিতে একাকার হয়ে যায়। প্রতিদিন এই নরকযন্ত্রণা সহ্য করেই ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন হাজারো মানুষ।সংবাদ প্রকাশের পর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে নারায়ণপুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম নিউজ হওয়ার পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসবে। কিন্তু রাস্তাটির অবস্থা আগের মতোই খারাপ। সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটার কোনো উপায় থাকে না। খানাখন্দের কারণে প্রতিনিয়ত রিকশা ও সিএনজি উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে।

আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সময়মতো বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। প্রশাসন কি কোনো বড় দুর্ঘটনার অপেক্ষা করছে?”ব্যবসায়িক দিক থেকেও সড়কটি ওই অঞ্চলের মেরুদণ্ড। উত্তর কুমড়াকাপন এলাকার ব্যবসায়ী আলহাজ্ব কমর উদ্দিন ক্ষোভের সাথে বলেন, “মুন্সিবাজার আমাদের এলাকার মূল বাণিজ্যিক কেন্দ্র। কিন্তু রাস্তার এই জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে মালামাল পরিবহন খরচ এখন দ্বিগুণ। ক্রেতারাও এই ভাঙা রাস্তা দিয়ে আসতে চান না।

আমাদের ব্যবসা এখন ধ্বংসের মুখে। নিউজ হওয়ার পরেও যখন কাজ হয় না, তখন আমরা কার কাছে যাব?”সবচেয়ে বেশি মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন এলাকার গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও মুমূর্ষু রোগীরা। স্থানীয় গৃহিণী ফাতেমা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, “কোনো রোগীকে এই রাস্তা দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া মানে তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া। ঝাঁকুনিতে সুস্থ মানুষই অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমরা এই নরকযন্ত্রণা থেকে দ্রুত মুক্তি চাই।”সড়কটিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন চালকরাও। সিএনজি চালক জয়নাল আবেদীন বলেন, “ভাঙা রাস্তার কারণে গাড়ির পার্টস প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে। আয়ের চেয়ে গাড়ি মেরামতের খরচই বেশি।

পেটের দায়ে গাড়ি চালাই, কিন্তু সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকি কখন জানি বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে।”প্রশাসনের এমন নিষ্ক্রিয়তার বিষয়ে জানতে চাইলে ৯ নং ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল হান্নান জনগণের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, “সড়কটির বেহাল দশার কারণে জনগণের দুর্ভোগ সত্যিই চরমে পৌঁছেছে। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের জন্য আমি ইতিমধ্যে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং কমলগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপ তালুকদারকে (ইউএনও) লিখিত ও মৌখিকভাবে অবগত করেছি।

আশা করছি খুব দ্রুতই প্রশাসনিক অনুমোদন সাপেক্ষে রাস্তাটির সংস্কার কাজ শুরু হবে।তবে স্থানীয় ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর প্রশ্ন—চিঠি চালাচালি আর আশ্বাসের বাণী কতদিন চলবে? গণমাধ্যমে নিউজ হওয়ার পরেও কেন প্রশাসন এখনও নীরব ভূমিকা পালন করছে? এলাকাবাসী আর কোনো ফাঁকা আশ্বাস চান না; তারা এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির দ্রুত, স্থায়ী ও টেকসই সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

ই-প্রিন্ট

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 ১২
৩৪৫৬৭৮৯
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১