
সত্যিই কি দুধ দিয়ে গোসল করে ‘শুদ্ধ’ হওয়া যায়, অতীত মুছে ফেলা যায় কিংবা ভুল শুধরে নেয়া যায়? এমন প্রশ্নের উত্তর অবশ্য লুকিয়ে আছে অতীতের শিকড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ভুল’ শুধরে নিতে, অতীত মুছে ফেলতে বা নতুন জীবন শুরু করতে দুধ দিয়ে গোসলের প্রবণতা সংস্কৃতির অংশ নয়। বরং এটি সমাজে প্রচলিত রয়েছে ইতিহাস, ধর্মীয় আচার, প্রতীকী ভাষা এবং মানুষের মনস্তাত্ত্বিক কারণে। যেমন-
১। প্রথমেই উল্লেখ করা যায় ধর্মীয় আচারের কথা। দক্ষিণ এশিয়ার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে দুধ দিয়ে অভিষেকের রীতি রয়েছে, যেখানে বিশ্বাস করা হয়—এটি অপবিত্রতা দূর করে নতুন শক্তি আনে।
২। প্রাচীন সভ্যতাগুলোতে দুধকে পুনর্জন্ম, সমৃদ্ধি ও সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। যে কারণে দুধ দিয়ে গোসল করা তাদের মধ্যে প্রচলিত ছিল।
৩। মনোবিজ্ঞান এটিকে বলছে ‘রিচুয়ালাইজড বিহেভিয়ার’। অর্থ্যাৎ মানুষ যখন জীবনে অথবা অভ্যন্তরীণ আচরণে বড় কোনও পরিবর্তন আনতে চায় তখন বাহ্যিক কোনো আচরণে সেটির ঘোষণা দিতে চান। যে কারণে অনেককেই দেখা যায়, জীবনে নতুন কিছু শুরু করতে চুল কেটে ফেলেন, কেউ পুরনো জিনিস ভেঙে ফেলেন, কেউ আবার শরীরে দুধ ঢেলে গোসল করেন।
‘ভুল’ শুধরে নিতে শরীরে দুধ ঢেলে গোসল করা মূলত নাটকীয় একটি দৃশ্যমান ঘোষণা যেটি প্রতীকী অর্থে করা হয়। যার মাধ্যমে সবাইকে জানানোর চেষ্টা করা হয় কেউ তার অতীত ভুলতে চায়। যদিও দুধ দিয়ে গোসল করে অতীত মুছে ফেলা যায় না। অতীত থেকে বেরিয়ে আসতে শুধু প্রয়োজন হয় একনিষ্ঠ চেষ্টা আর সে চেষ্টায় অটল থাকার দৃঢ়তা।
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :