
সভায় তিস্তা নদীর সার্বিক পরিস্থিতি, নদীভাঙন প্রতিরোধ, পানি সংরক্ষণ এবং প্রস্তাবিত তিস্তা মেগা প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, তিস্তা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বিশেষ প্রকল্পের আওতায় দেশীয় অর্থায়নের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা হচ্ছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজেই প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি তদারকি করছেন।
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে তিস্তা অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একাধিক কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পের প্রাথমিক সমীক্ষা ও কারিগরি বিশ্লেষণ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ৯ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দল চূড়ান্ত নকশা ও রূপরেখা প্রণয়নের কাজ করছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান এমপি এবং রোকন উদ্দিন বাবুল এমপি উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তিস্তা সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে এ অঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছিলেন। তিস্তা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীভাঙন রোধ, নদীশাসন এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের স্থায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
সভা শেষে মন্ত্রীবৃন্দ তিস্তা নদীর ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যা, দাবি ও প্রত্যাশার কথা শোনেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারের এই উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শনের ফলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গতি আসবে এবং নদীপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান হবে।
লালমনিরহাটের আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন এখানে
আপনার মতামত লিখুন :