প্রতিনিধি
প্রকাশের সময় : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
১২০
লাখোকণ্ঠ প্রতিবেদক : মেধার দীপ্তি ছড়িয়ে পড়ুক আগামীর পথে,অর্জনের আলোয় আলোকিত হোক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ।”আনন্দ, গর্ব, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণাময় পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো আহমেদ আব্দুর রহমান ট্রাস্ট কর্তৃক পরিচালিত ফরিদ আহমেদ ভূইয়া একাডেমির উদ্যোগে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত এবং একাডেমির প্রাক্তন কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা–২০২৬।
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃতী শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত প্রধান শিক্ষক এবং বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ।সাফল্যের স্বীকৃতি, স্মৃতির আবেগ, শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভবিষ্যতের প্রত্যাশার সমন্বয়ে দিনটি হয়ে ওঠে ফরিদ আহমেদ ভূইয়া একাডেমি পরিবারের জন্য একটি স্মরণীয় ও গৌরবময় দিন।
কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতি:
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্য উদযাপন এবং তাঁদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
চাটখিল ও রামগঞ্জ উপজেলার প্রায় দুইশত কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ক্রেস্ট, মগ, অভিনন্দনপত্রসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী। তাঁদের মুখের হাসি, চোখের স্বপ্ন এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রত্যয় পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত ও আনন্দময় করে তোলে।এই সম্মাননা কেবল একটি পুরস্কার নয়; এটি তাঁদের পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও মেধার প্রতি একাডেমির ভালোবাসা এবং স্বীকৃতির প্রতীক।
প্রাক্তন কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা:
একাডেমির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাফল্যও এ আয়োজনের অন্যতম গর্বের বিষয় হয়ে ওঠে। একসময় যারা এই প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে বসে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, আজ তাঁরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে একাডেমির সুনাম বৃদ্ধি করছেন।একাডেমির প্রাক্তন কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, স্মারক মগসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। তাঁদের অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাডেমির আত্মিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ফিরে আসা, স্মৃতিচারণ এবং বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তাঁদের অভিজ্ঞতা বিনিময় পুরো অনুষ্ঠানকে আবেগঘন ও অনুপ্রেরণাময় করে তোলে।
শুভসূচনা ও অতিথিদের অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য:
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন একাডেমির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জনাব মোঃ গোলাম কিবরিয়া।
আহমেদ আব্দুর রহমান ট্রাস্টের সম্মানিত চেয়ারম্যান ও ফরিদ আহমেদ ভূইয়া একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব ফরিদ আহমেদ ভূইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব কাজী আতিকুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, রামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের জীবনে সময়ের গুরুত্ব, অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা এবং উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়কে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনশীল পর্যায় হিসেবে উল্লেখ করে এই সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে অধ্যয়ন করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
অতিথিবৃন্দ তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে কৃতী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে—সাফল্য কেবল ভালো ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সততা, মানবিকতা, দায়িত্ববোধ, অধ্যবসায় এবং নিরন্তর শেখার মধ্য দিয়েই একজন মানুষ প্রকৃত অর্থে সফল হয়ে ওঠে।
প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মিলনমেলায় সৌহার্দ্য ও সম্মাননা: রামগঞ্জ ও চাটখিল উপজেলা থেকে আগত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত প্রধানদের পক্ষ থেকে বক্তব্য প্রদান করেন জনাব মোঃ আব্দুল আউয়াল, প্রধান শিক্ষক প্রতিনিধি, মাসিমপুর আব্দুল লতিফ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়।আগত সম্মানিত প্রধান শিক্ষকদের হাতে উপহারসামগ্রী তুলে দেন অনুষ্ঠানের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব ফরিদ আহমেদ ভূইয়া।
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত শিক্ষানুরাগী ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি শিক্ষা অঙ্গনের এক সৌহার্দ্যপূর্ণ মিলনমেলায় পরিণত হয়।
সাফল্যের নেপথ্যের কারিগর—শিক্ষকদের সম্মাননা:
একজন শিক্ষার্থীর সাফল্যের পেছনে তার নিজের অধ্যবসায়ের পাশাপাশি শিক্ষকের নিরলস শ্রম, ভালোবাসা, ত্যাগ ও দিকনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ফরিদ আহমেদ ভূইয়া একাডেমির এসএসসি–২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করায় একাডেমির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিশেষভাবে সংবর্ধিত করা হয়।
সংবর্ধিত শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য প্রদান করেন স্কুল সেশনের কোঅর্ডিনেটর জনাব ইসমাইল।শিক্ষকদের এই সম্মাননা ছিল তাঁদের প্রতি একাডেমির গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ। কারণ, একজন শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না; তিনি একটি প্রজন্মের স্বপ্নকে লালন করেন এবং ভবিষ্যতের পথচলার দিশা দেখান।
বর্তমান শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে শুভকামনা:
একাডেমির বর্তমান শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য প্রদান করেন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান প্রীতি।
তাঁর বক্তব্যে প্রিয় বড় ভাই-বোনদের সাফল্যে ছোটদের আনন্দ, শ্রদ্ধা ও অনুপ্রেরণার অনুভূতি প্রকাশ পায়। বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য কৃতী শিক্ষার্থীদের এই অর্জন নিঃসন্দেহে আগামী দিনের সাফল্যের পথে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
কৃতী শিক্ষার্থীদের অনুভূতি ও প্রত্যয়:জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য প্রদান করেন হাসপিয়া জান্নাত হাসপিয়া জান্নাত হাসপিয়া জান্নাত মাশেতা ও সাদিয়া আক্তার রাইসা।
তাঁরা নিজেদের সাফল্যের অনুভূতি প্রকাশের পাশাপাশি সহপাঠী ও জুনিয়রদের উদ্দেশ্যে সময়কে মূল্য দেওয়া, নিয়মিত অধ্যয়ন, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নির্ধারণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন।
প্রাক্তনদের স্মৃতিচারণে আবেগঘন মুহূর্ত:একাডেমির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য প্রদান করেন ওমর ফারুক রাহাত (এইচএসসি -২০২০,রসায়ন বিভাগ, জাবি) ও মোবারক ইবনে রাহীম (এইচএসসি-২০২৪, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার বিভাগ, বুয়েট), জান্নাতুল মাওয়া বিন্তী, এইচএসসি -২০২৪,পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, কুবি)।
তাঁদের বক্তব্যে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পথে বাস্তব অভিজ্ঞতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা উঠে আসে। পাশাপাশি প্রিয় একাডেমিকে ঘিরে তাঁদের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে সৃষ্টি করে এক আবেগঘন পরিবেশ।একসময় যারা এই প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে বসে স্বপ্ন বুনেছিলেন, আজ তাঁরাই ফিরে এসে নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাচ্ছেন—এটি একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের অন্যতম সুন্দর প্রতিচ্ছবি।
সংস্কৃতির রঙে বর্ণিল আয়োজন:কৃতী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে একাডেমির বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল এ আয়োজনের অন্যতম প্রাণবন্ত অংশ।
গান ও নৃত্যের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানস্থলকে প্রাণবন্ত করে তোলে। মেধা ও মননের পাশাপাশি সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও নান্দনিকতার চর্চাও যে একজন শিক্ষার্থীর পূর্ণাঙ্গ বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ—এই আয়োজন তারই সুন্দর প্রতিচ্ছবি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক জনাব সাজ্জাদুর রহমান এবং বাংলা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক জনাব মোঃ নুর উদ্দিন।
মেধা, সাফল্য আর স্বপ্নের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ফরিদ আহমেদ ভূইয়া একাডেমি। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী এবং একাডেমির প্রাক্তন কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা শিক্ষকদেরও দেওয়া হয়েছে বিশেষ সম্মাননা।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে একাডেমির হল রুমে আহমেদ আব্দুর রহমান ট্রাস্ট পরিচালিত ফরিদ আহমেদ ভূইয়া একাডেমির উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আহমেদ আব্দুর রহমান ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ আহমেদ ভূইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিকুর রহমান। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. গোলাম কিবরিয়া।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রকৌশলী মনজুর আহমেদ ভূইয়া, নোয়াখালীর চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোন্নাফ এবং রামগঞ্জ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার শরীফুল্লাহ আস সামস্।
অনুষ্ঠানে এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থী ও ভালো ফলাফলের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিশেষভাবে সংবর্ধিত করা হয়।পাশাপাশি একাডেমির প্রাক্তন কৃতী শিক্ষার্থীদেরও সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে রামগঞ্জ ও চাটখিল উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদেরও সম্মাননা ও উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়।আয়োজকরা জানান, শুধু ভালো ফলাফল নয়, মেধা ও মানবিকতার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের আলোকিত ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই ফরিদ আহমেদ ভূইয়া একাডেমির অন্যতম লক্ষ্য।
আপনার মতামত লিখুন :