
পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে স্বজনরা মরদেহটি ইসমাইল হোসেনের বলে শনাক্ত করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ইসমাইল হোসেন গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় স্ত্রী, দুই সন্তান ও ছেলের বউকে নিয়ে বসবাস করতেন। তিনি একসময় ডেল্টা স্পিনিং মিলে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। অসুস্থতার কারণে প্রায় নয় মাস আগে চাকরি ছেড়ে দেন।
নিহতের ছেলে হাসান জানান, তাঁর ছোট বোন শারমিনের বিয়ে ঠিক হয়েছিল। বিয়ের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করার জন্য তাঁর বাবা জামালপুর থেকে গাজীপুরে ফিরছিলেন। মেয়ের বিয়ের খরচের জন্য গ্রামের ১১ শতাংশ জমি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলেন ইসমাইল।
হাসান বলেন, জমি বিক্রির টাকা থেকে তাঁর বাবা আগের দুই লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ করেন। পরে গ্রামে একটি ঘর নির্মাণে কিছু টাকা খরচ করেন। বাকি প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নগদ নিয়ে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। তাঁর সঙ্গে একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও একটি বাটন ফোন ছিল। তবে মরদেহ উদ্ধারের পর এসব কিছু পাওয়া যায়নি বলে জানান হাসান।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে জামালপুর থেকে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হন ইসমাইল। রাত ১১টার দিকে তিনি ছেলেকে ফোন করে সকালে গাজীপুরে পৌঁছানোর কথা জানান। শুক্রবার সকালে গাজীপুরের জিরানীতে তাঁর নামার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে অপেক্ষা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
এরপর বনানী থানা থেকে বিষয়টি জামালপুর পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বজনরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ইসমাইলের মরদেহ শনাক্ত করেন।
শুক্রবার সকালে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। তখন তাঁর মুখে টেপ লাগানো ছিল। পরনে ছিল অটোরিকশাচালকদের ইউনিফর্মের মতো নীল রঙের শার্ট ও লুঙ্গি।
বনানী থানার এসআই নজরুল ইসলাম তালুকদার জানান, আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ইসমাইলকে শ্বাসরোধে হত্যা করে কোনো গাড়িতে করে এনে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এসআই নজরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, পুরো এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে নিরাপত্তা ক্যামেরা রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে মরদেহ বহনকারী গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত, কী কারণে ইসমাইলকে হত্যা করা হয়েছে এবং তাঁর সঙ্গে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোনের কী হয়েছে—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :