
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. আবুল কালাম আজাদ। সার বিক্রির বৈধ লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও সেখানে সরকারি সার মজুদ ও বিক্রির অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে প্রতিষ্ঠানের গুদাম ও সংশ্লিষ্ট স্থানে তল্লাশি চালিয়ে ৪০৩ বস্তা ডিএপি সার পাওয়া যায়। পরে এসব সার জব্দ করা হয়। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি সার নির্ধারিত নিয়মের বাইরে মজুদ বা বিক্রির সুযোগ নেই। জব্দ করা সার বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় আটক করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
তবে জব্দ করা সার কোথা থেকে এসেছে এবং কীভাবে একটি লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানের গুদামে পৌঁছেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ধারণা করা হচ্ছে সারগুলো নওয়াপাড়া থেকে আনা হয়েছে। তবে নির্ধারিত কাগজপত্র দেখাতে না পারায় শান্তনা এন্টারপ্রাইজকে জরিমানা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত জব্দ করা সারের সরবরাহকারী, পরিবহনব্যবস্থা কিংবা এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ফলে কৃষকের জন্য বরাদ্দ সরকারি সার কীভাবে নির্ধারিত বিতরণব্যবস্থার বাইরে গেল, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, আমন মৌসুমে সারের চাহিদার সময়ে সরকারি সার কালোবাজারে চলে গেলে এর প্রভাব পড়তে পারে কৃষকদের ওপর। তারা জব্দ করা সারের উৎস, সরবরাহের পথ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযানে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান শেখের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে। এ সময় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. পাভেল রানাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জব্দ হওয়া ৪০৩ বস্তা সারের প্রকৃত উৎস, সরবরাহের বৈধতা এবং এর সঙ্গে কেউ অবৈধভাবে জড়িত কি না—তদন্তের মাধ্যমে তা স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :