ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোরবানির মাংস কাটতে গিয়ে আহত দুই শতাধিক


বাহাদুর আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রকাশের সময় : ২৮ মে, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোরবানির মাংস কাটতে গিয়ে আহত দুই শতাধিক

পবিত্র ঈদুল আজহার দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটতে গিয়ে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ। আহতদের বেশিরভাগই ধারালো ছুরি, দা ও চাপাতির আঘাতে হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছেন। এছাড়া গরু ও মহিষের লাথি কিংবা চাপায় আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রেজিস্টার সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, কোরবানির মাংস কাটার সময় অসাবধানতাবশত ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অধিকাংশ মানুষ আহত হয়েছেন। অনেকের হাত ও পায়ে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া গরু-মহিষ জবাইয়ের সময় প্রাণীর লাথি কিংবা চাপায় হাত-পা ভাঙাসহ বিভিন্ন ধরনের আঘাত পেয়েছেন অনেকে। তবে আহতদের কারও অবস্থা গুরুতর নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন তাজুল (৫৮), জাবেদ (১৮), হানিফ (২২), নওশাদ (২৫), মাশেক (২৫), সোহাগ (৪০), জিতনি (১৮), খায়ের (৩৫), আলভী (১২), বিশাল (২০), জাহাঙ্গীর (৪২), হাসিম (২৫), ইফতি (২০), লিটন (৩০), মেহেদী (২১), কামরুল (২৫), ইব্রাহিম (২৫), শরিফ (২২), মিতুল (২৭), রবিন (২০), নাহিদ (২৬), ইসমাইল (২৬), মুস্তাকিম (১৮), রামিম (১৮), রোহান (২৩), নীরব (১৮), হেলাল মিয়া (৩১), সানি (৩৫), উবায়দুল (২৫), সায়ন (২৫) ও বাছির (২২)সহ আরও অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অভিজ্ঞতার অভাব ও অসাবধানতার কারণেই এসব দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে। বিশেষ করে মৌসুমি কসাই ও পরিবারের সদস্যরা পশু জবাই এবং মাংস কাটতে গিয়ে বেশি আহত হয়েছেন।

শহরের কাজীপাড়ার বাসিন্দা আহত সোহাগ মিয়া বলেন, “মাংস কাটার সময় পায়ের নিচে রেখে কাটতে গিয়ে হঠাৎ পায়ে কোপ লাগে।” পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁর পায়ে তিনটি সেলাই দিতে হয়েছে।

শহরের ভাদুঘর এলাকার হানিফ মিয়া জানান, সকালে কোরবানির পর গরুর মাংস কাটার সময় অসাবধানতাবশত হাতে ছুরি লেগে যায়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে তিনি হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেন।

অন্যদিকে নবীনগরের বাইশমৌজা এলাকার মো. খায়ের বলেন, মহিষ জবাইয়ের সময় প্রাণীটির বাঁধন ছিঁড়ে গেলে সেটি তাঁর ওপর পড়ে যায়। এতে তাঁর হাত, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শুভ্র রায় ও ডা. দীপংকর ঘোষ বলেন, সকাল থেকেই আহত রোগীদের চাপ ছিল। কোরবানির মাংস কাটতে গিয়ে এবং পশু জবাইয়ের সময় অসাবধানতার কারণেই অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অনিক দেব বলেন, দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অর্ধশতাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের বেশিরভাগের হাতের বিভিন্ন অংশ কাটা ছিল। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী বলেন, “কোরবানির দিন অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। জরুরি প্রয়োজনে সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন এখানে

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১