
এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—কুন্দিপুর গ্রামের কাদের ব্যাপারীর ছেলে আব্দুল আলী (৪৫), একই এলাকার মন্ডল পাড়ার হোসেন আলীর ছেলে জনি হোসেন (২১) এবং আবদুল কাদেরের ছেলে পলাশ আলী (২০)। মামলার প্রধান আসামি মিরাজ এখনো পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল বিকেলে ওই কিশোরী ছাগল আনার জন্য বাড়ির পাশের একটি মাঠে যায়। এ সময় কুন্দিপুর গ্রামের মিরাজ তাকে জোরপূর্বক একটি ভুট্টা ক্ষেতের ভেতর নিয়ে ধর্ষণ করে। অন্য আসামি পলাশ আলী ধর্ষণের এই দৃশ্য নিজের মোবাইল ফোনে ধারণ (রেকর্ড) করে। আর জনি হোসেন নামের অপর আসামি ভুট্টা ক্ষেতের বাইরে দাঁড়িয়ে পাহারা দেয়।
ধর্ষণের পর অভিযুক্তরা কিশোরীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলে, এই ঘটনা কাউকে জানালে ধর্ষণের ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়ে ভাইরাল করে দেওয়া হবে। ঘটনার কয়েকদিন পর আসামিদের মোবাইল থেকে ধর্ষণের ওই ভিডিওটি এলাকার বিভিন্ন মানুষের মোবাইলে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি কিশোরীর পরিবার জানতে পারলে আসামিরা তাদের ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ভিডিওটি সবার মোবাইল থেকে সরিয়ে ফেলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসামি পলাশ কিশোরীর পরিবারের কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করে। অন্যদিকে, আব্দুল আলী নামের অপর এক আসামি ঘটনাটি সামাজিকভাবে মীমাংসা করে দেওয়ার এবং ভিডিওটি ডিলিট করার কথা বলে আরও পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। ধর্ষণের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান।
তিনি জানান, ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি পুলিশের নজরে আসার পরপরই দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করা হয়। আজ (বৃহস্পতিবার) ভুক্তভোগী কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা (মেডিকেল টেস্ট) সম্পন্ন করা হবে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। ওসি আরও বলেন, “ঘটনার মূল অভিযুক্ত মিরাজকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
চুয়াডাঙ্গার আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন এখানে
আপনার মতামত লিখুন :