
লাখোকন্ঠ ডেস্ক :: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ১নং ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধন সনদ তুলতে গিয়ে চরম হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হয়েছেন এক সেবাগ্রহীতা। খোদ একজন গণমাধ্যমকর্মী ও তার পরিবার এই হয়রানির মুখোমুখি হওয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিষদ স্টাফদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং সিন্ডিকেট বাণিজ্যের বিষয়টি জনসমক্ষে চলে এসেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৮ মে সোমবার ভুক্তভোগী গণমাধ্যমকর্মীর ভাই ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধন আনতে যান। তখন ইউনিয়ন সচিব ও ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার সাইফুল আলম সোহেল তাকে নিবন্ধন না দিয়ে উল্টো রহস্যজনক কারণে মূল আবেদনকারীকে সশরীরে আসার শর্ত জুড়ে দেন। আজ (২১ মে) ভুক্তভোগী নিজে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দায়িত্বরত দফাদার অরুপ দাস, সরাফত আহমদ ও গোপাল দাসের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান সনদটি সচিবের কাছে রয়েছে। অথচ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এই তথ্যের কোনো মিল মেলেনি মাঠপর্যায়ে। চেয়ারম্যানের রহস্যজনক নীরবতা: সার্বিক বিষয়ে ১নং ফতেহপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নকুল চন্দ্র দাসের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। দায়িত্বশীল পদে থেকে জনগণের দুর্ভোগের সময় ফোন না ধরা এবং এড়িয়ে যাওয়ার এই প্রবণতাকে স্থানীয় সচেতন মহল অত্যন্ত দুঃখজনক ও রহস্যজনক বলে মনে করছেন। ইউএনও’র হস্তক্ষেপে থলের বিড়াল বের: উপায়ান্তর না পেয়ে ভুক্তভোগী রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কে বিষয়টি অবহিত করেন। ইউএনও’র তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে ও কড়া নির্দেশে ইউনিয়ন সচিব মুখ খুলতে বাধ্য হন। সচিব জানান, জন্ম নিবন্ধনটি গত সোমবারই (১৮ মে) প্রস্তুত হয়ে গেছে এবং সেটি বর্তমানে ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার সাইফুল আলম সোহেলের ব্যক্তিগত হেফাজতে রয়েছে। ক্ষোভ ও প্রশ্ন: একটি সরকারি সনদ প্রস্তুত হওয়ার পরও তা সেবাগ্রহীতাকে না দিয়ে মেম্বারের পকেটে কেন আটকে রাখা হলো, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী গণমাধ্যমকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা গণমাধ্যমকর্মী হয়েও যদি একটি জন্ম নিবন্ধনের জন্য এভাবে টেবিলে টেবিলে ঘুরতে হয় ও হয়রানির শিকার হতে হয়, তবে সাধারণ ও নিরক্ষর মানুষ এই পরিষদে এসে কতটা ভোগান্তি ও আর্থিক শোষণের শিকার হচ্ছেন—তা সহজেই অনুমান করা যায়।” স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ফতেহপুর ইউনিয়নে জন্ম নিবন্ধন ও নাগরিক সনদ আটকে রেখে সাধারণ মানুষকে পোহাতে হয় অন্তহীন ভোগান্তি। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে এবং জড়িত মেম্বার ও উদাসীন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
আপনার মতামত লিখুন :