চুয়াডাঙ্গায় মুক্তিপণের জন্য কিশোরকে হ.ত্যা: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার


শিমুল রেজা, চুয়াডাঙ্গা প্রকাশের সময় : ২৭ জুন, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ ৪২
চুয়াডাঙ্গায় মুক্তিপণের জন্য কিশোরকে হ.ত্যা: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ১৫ বছর বয়সী কিশোর রাফিজ মিয়াকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি এবং পরে হত্যা মামলার প্রধান আসামি লাল্টু মিয়া (৪১)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি রশিও উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। এর আগে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ৫ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকী গ্রামের বাসিন্দা রাফিজ মিয়া একটি ফোনকল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। রাত ১১টার দিকে তাঁর দাদি আমেনা খাতুনের মোবাইল ফোনে অপরিচিত নম্বর থেকে কল করে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ফোনে রাফিজের কান্নার শব্দও শোনানো হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, রাফিজের বাবা প্রবাসে থাকায় পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে অপহরণের পরিকল্পনা করা হয়। অপহরণের পর তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর এলাকার অর্জুন খালের পাশে নিয়ে হাত-পা বেঁধে রাখা হয় এবং পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে টাকা না পেয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি। হত্যার পর মরদেহ অর্জুন খালে ফেলে দিয়েও পরিবারের কাছে কয়েক দফা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

ঘটনার আট দিন পর, ১৩ জুন কুতুবপুরের লাল ব্রিজসংলগ্ন অর্জুন খালের পাশের একটি পুকুর থেকে রাফিজের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ১০ জুন রাফিজের দাদি আমেনা খাতুন বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার তদন্তে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি) ও আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত রশি উদ্ধার করা হয়।আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাঁদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০