চুয়াডাঙ্গা আদালত চত্বরে ভুয়া আইনজীবীসহ দুজন আটক


শিমুল রেজা, চুয়াডাঙ্গা প্রকাশের সময় : ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ ৪২
চুয়াডাঙ্গা আদালত চত্বরে ভুয়া আইনজীবীসহ দুজন আটক

চুয়াডাঙ্গা আদালত চত্বরে নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে মামলা পরিচালনার অভিযোগে আবু সালেহ মাহমুদ ওরফে সাগর আহমেদ নামে এক ব্যক্তিসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা তাদের আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

আটকের সময় আবু সালেহ মাহমুদের গলায় ঝোলানো একটি কাগজে লেখা ছিল, আমি টাউট। বিষয়টি আদালত চত্বরে উপস্থিত আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং সেখানে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

আটক দুজন হলেন কিশোরগঞ্জ জেলার সোনাপুর গ্রামের মো. চাঁন মিয়ার ছেলে আবু সালেহ মাহমুদ ওরফে সাগর আহমেদ এবং চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের মৃত ফইজুদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে মুকবুল হোসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আবু সালেহ মাহমুদ নিজেকে ঢাকা বার কাউন্সিলের আইনজীবী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মামলার বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মামলার অগ্রগতি, জামিন এবং রায় প্রভাবিত করার আশ্বাস দিয়ে তিনি অর্থ নিতেন বলেও অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।

অভিযোগ রয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে দামুড়হুদা উপজেলার কলাবাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ জামাত আলীর কাছ থেকে একটি ফৌজদারি মামলায় অনুকূল রায় পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা নেওয়ার পর বিষয়টি জেলা আইনজীবী সমিতির নজরে আসে। পরে সমিতির সদস্যরা তাকে আটক করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আইনজীবী হিসেবে কোনো বৈধ সনদ বা নিবন্ধনের কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে দাবি করেন আইনজীবীরা।

ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, জমি-সংক্রান্ত একটি ফৌজদারি মামলার কথা বলে তার কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার বেশি নেওয়া হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করেন আলমডাঙ্গা উপজেলার এরশাদপুর গ্রামের মোহাম্মদ বিপ্লব আলী। তিনি দাবি করেন, নিজেকে ঢাকা বার কাউন্সিলের আইনজীবী পরিচয় দিয়ে তার কাছ থেকে ১ লাখ ৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মারুফ সারোয়ার বাবু হোসেন বলেন, আবু সালেহ মাহমুদ নিজেকে ঢাকা বার কাউন্সিলের আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিলেও তার কাছে আইন পেশায় নিয়োজিত থাকার কোনো বৈধ সনদ পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আদালত চত্বরকে টাউট ও দালালমুক্ত রাখতে আইনজীবী সমিতি নিয়মিত নজরদারি করছে। বিচারপ্রার্থীদের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করতেই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “আইনজীবী সমিতির সদস্যরা দুজনকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তাদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন

Google-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

Google-এ পড়ুন লাখোকণ্ঠের খবর 

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১