
সোমবার (৩ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০১৯ সালে নির্মিত কোলকোন্দ ইউনিয়নের মার্জিনাল ডাইকের বিভিন্ন স্থানে ব্লক পিচিং ধসে গেছে। কয়েকটি স্থানে ইতোমধ্যে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। এতে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
কোলকোন্দ ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আশরাফুজ্জামান বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মীরপাড়া হয়ে গ্রোয়েন বাঁধ পর্যন্ত পুরো এলাকাই এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।”
স্থানীয় বাসিন্দা মতলুবার রহমান বলেন, “এই পিচিং থাকায় কোনোভাবে বাড়িঘর করে বসবাস করছি। এবার যদি ভাঙন শুরু হয়, তাহলে বাঁধে গিয়ে আশ্রয় নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।”
আরেক বাসিন্দা মনতাজ আলী বলেন, “এখানে ভাঙন ঠেকানো না গেলে আমাদের বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। এমনকি মূল বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।”
জেলা যুবদলের সদস্য ও গঙ্গাচড়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শামীম মিয়া বলেন, “বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, “বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।”
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নবনিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, “আজই দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড শুকনো মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণে উদাসীন থাকে। আর বর্ষা মৌসুমে ভাঙন শুরু হলে জরুরি পদক্ষেপ নিতেও বিলম্ব হয়। ফলে প্রতিবছরই নদীভাঙনের শিকার হচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ। তারা দ্রুত কার্যকর ভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :