
কেরু অ্যান্ড কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৯০ কোটি টাকা আয় করেছে, যা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সরকারকে ১৪০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ও ভ্যাট দেওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি ১২৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার নিট মুনাফা করেছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন অনিয়ম ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ডিস্টিলারি বিভাগে আধুনিকায়ন, উৎপাদনে অটোমেশন, নিরাপত্তা জোরদার, সিসিটিভি স্থাপন, সীমানা প্রাচীরে কাঁটাতার বসানোসহ নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে উৎপাদন ও বিক্রি বেড়েছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) আওতাধীন ১৫টি চিনিকলের মধ্যে অধিকাংশই লোকসানে থাকলেও কেরু একমাত্র বড় লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ডিস্টিলারি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রাজিবুল হাসান বলেন, উৎপাদনে অটোমেশন ও আধুনিক বোতলজাত প্রক্রিয়া চালুর ফলে উৎপাদন ও বিক্রি বেড়েছে। একই সঙ্গে পণ্যের মানও উন্নত হয়েছে।
কেরু অ্যান্ড কোম্পানির প্রধান পণ্য চিনি হলেও আখ থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন উপজাত পণ্য—মদ, স্পিরিট, ভিনেগার ও জৈব সার থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির ডিস্টিলারি ইউনিটে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় মদ উৎপাদন করা হয়। বর্তমানে ঢাকা ও শ্রীমঙ্গলের গুদামগুলোতে এসব পণ্যের চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, কেরুকে আরও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। আখচাষ বৃদ্ধি, উন্নত বীজ ব্যবহার ও কৃষিতে আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে আগামীতে চিনিখাতেও লোকসান কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চুয়াডাঙ্গার আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন এখানে
আপনার মতামত লিখুন :