
সামরুজ্জামান (সামুন), কুষ্টিয়া
রোববার ( ২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউরিয়ায় লালন একাডেমির মিলনায়তনে ‘ফকির লালন শাহ বাংলার ভাব ও ভাষার ঐশ্বর্য’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলছেন। “মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি” প্রতিপাদ্যে এ সেমিনারের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন ও লালন একাডেমি।
কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, ‘এই ভাব চর্চা, রসও চর্চা তার আগে ছিল তন্ত্র। তন্ত্র থেকে রস, রস থেকে ভাব। এই তিনটা স্তর বাংলায় ভাবের মূল। যা অসাধারণ একটা কাজ। এই জায়গা যদি আমরা যেতে পারি। আমাদের পুরোনো গুরুমশাই যাঁরা ছিলেন, অধিকাংশই কিন্তু দেহ রেখেছেন। তাঁরা কিন্তু আর জীবিত নাই। আমরা যাঁরা কিছু সংখ্যক মানুষ তাঁদের কাছ থেকে অল্প কথা শুনেছি। অল্প কিছু শিক্ষা পেয়েছি। তাঁদের কথা আমরা বলি, আপনারা রাগ করেন। কিন্তু যদি আপনারা আমাদের কথা মনযোগ দিয়ে অন্তত না শোনেন, আমরা কিন্তু বিব্রতর মধ্যে পড়ি। তাহলে আমরা কেউ কিন্তু এই মাজারকে রক্ষা করতে পারবোনা।’
ফরহাদ মজহার আরও বলেছেন, ‘ফকির লালন শাহ তাঁর ভাব এবং ভাষার দ্বারা বাংলা ভাষায়, আরবি ভাষায়, ফারসি ভাষায়, যে অপূর্ণ ব্যবহার দেখিয়েছেন, এটা অপূর্ণ। যদি সেটা সাহিত্যের দিক থেকে দেখা যায়। আমরা যাঁরা ধর্মপ্রাণ ভাই – বোনেরা আছি। তাঁরা অনেক সময় আপত্তি করেন। যে, ওই যে একটা নাম আছে, “পাড়ে কে যাবি লোকের নৌকাতে আয়।” এই গানের মধ্যে তাঁরা একবারও খেয়াল করেন না। গানের শুরুতে লেখা আছে রূপকাষ্ঠের নৌকা। তিনি রূপক অর্থে বুঝিয়েছেন।”
তিনি বলেন, ‘ভাবগত তর্ক গুলো আছে আমাদের মাঝে। ফকিরদের মাঝে আছে। আমাদের সমাজের মধ্যে আছে। থাকুক, অসুবিধা কি? কিন্তু আমরা যেন কারো অনুভূতিকে আহত না করি। আঘাত না করি।
যাতে এই সাঁইজির ধাম, ফকির লালন নিজেই বিপদের মধ্যে পড়েন। আমি কিন্তু সেই বিপদের সম্ভাব্য বিভিন্ন মাঝে ইতিমধ্যে দেখতে পেয়েছি।অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উপসচিব) মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে ফকির লালন শাহের জীবন, কর্ম ও দর্শনের উপর আলোচনা করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ও লেখক অধ্যাপক আ আল মামুন, ফোকলোর বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সুস্মিতা চক্রবর্তী, আলোকচিত্রী ও সাবেক শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য তাসলিম আখতার, জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম প্রমূখ।
আলোচকরা বলেন, ফকির লালন শাহ কেবল বাউল সম্রাট নন, তিনি বাংলার ভাব ও ভাষার ঐশ্বর্যের প্রধান রূপকার। তাঁর গান ও দর্শনে মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানুষের মুক্তির কথা উঠে এসেছে। লালনের সহজ ভাষা বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে অনন্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সেমিনারে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, লালন একাডেমির সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক, সাংবাদিক ও লালন অনুরাগীরা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :