উপহারে যখন বিদ্রূপের ছোঁয়া : সস্তা ‘ভাইরাল’ সংস্কৃতির কবলে সামাজিক মূল্যবোধ
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশের সময় : ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
উপহার হিসেবেসাধারণত সোনা-দানা, আসবাবপত্র বা শৌখিন সামগ্রী দেখার অভ্যাস থাকলেও, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নে এক বিয়েতে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র।
আতিকুর রহমান নামের এক বরের হাতে তার বন্ধুরা তুলে দিলেন কয়েক লিটার অকটেন। মুহূর্তেই এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, যা নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
অনেকেই একে ‘নিচু রুচি’ বা ‘সস্তা প্রচারের কৌশল’ হিসেবে দেখছেন। কিন্তু এই ভাইরাল সংস্কৃতির গভীরে অনুসন্ধান করলে দেখা যায় ভিন্ন এক বাস্তবতা। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় উপহার কেবল ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যম নয়, বরং এটি সময়ের প্রয়োজনীয়তা ও মূল্যবোধের প্রতিফলনও ঘটায়।
বর্তমানে জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ব্যয়ভার বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। আতিকুর রহমানের বন্ধুদের এই উপহারটি ছিল মূলত একটি ‘প্রতীকী প্রতিবাদ’ বা বিদ্রূপাত্মক উপস্থাপন।
গণমাধ্যম কেন এই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ব্যস্ত—এমন প্রশ্নের জবাবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সংবাদমাধ্যম সবসময় ‘অস্বাভাবিক’ বা ‘ব্যতিক্রমী’ খবর খোঁজে। যখন একটি লিটার তেলের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যায়, তখন সেটি বিয়ের উপহার হিসেবে আসা মানেই সমাজের একটি বড় ক্ষতকে বিদ্রূপের মাধ্যমে তুলে ধরা। এটি কেবল বিনোদন নয়, বরং দ্রব্যমূল্যের চাপে পিষ্ট মধ্যবিত্তের না বলা ক্ষোভের একটি বহিঃপ্রকাশ।
তবে সমালোচকদের মতে, মিডিয়ার অতি-উৎসাহ অনেক সময় মূল সমস্যা থেকে নজর সরিয়ে ঘটনাকে ভাঁড়ামোতে রূপান্তর করে। বিয়েবাড়ির আনন্দঘন পরিবেশে আড্ডা বা কৌতুকের অংশ হিসেবে এটি গ্রহণযোগ্য হলেও, একে জাতীয় গুরুত্ব দেওয়াটা চিন্তাশীলতার অভাব নির্দেশ করে। উপহারের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মুদ্রাস্ফীতির কশাঘাত নাকি নিছক ভাইরাল হওয়ার নেশা—তা নিয়ে জনমনে বিতর্ক থাকলেও, ঘটনাটি বর্তমান সময়ের একটি কর্কশ চিত্র হিসেবেই ইতিহাসে জায়গা করে নিল।
আপনার মতামত লিখুন :