রাজনগরে ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর হুমকির অভিযোগ, মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ার চেষ্টা!


লাখোকন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশের সময় : ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ ২৯৬
রাজনগরে ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর হুমকির অভিযোগ, মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ার চেষ্টা!

লাখোকন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট :মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামে এক শিশুকে নির্যাতনের ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ ও ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে নেওয়াকে কেন্দ্র করে, সাংবাদিক আলী আহমদ রিপনের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর অভিযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ১নং ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাউছার মিয়ার বিরুদ্ধে।
‎
‎অভিযোগ রয়েছে, শিশুটিকে উদ্ধারের পর সাংবাদিক আলী আহমদ রিপন নিজ উদ্যোগে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কাউছার মিয়া, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিককে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি ও গালিগালাজ করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর আত্মীয়-স্বজনের ওপরও চাপ প্রয়োগ করে থানায় যাওয়ার জন্য বলা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
‎
‎ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির বক্তব্য সাংবাদিকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাউছার মিয়ার কথায় তারা থানায় যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তাঁর কথার বাইরে যাওয়ার সাহস পাননি বলেও তাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন।
‎
‎ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশকে অবহিত করেন সাংবাদিক?
‎
‎জানা যায়, শিশুটির সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি জানার পর সাংবাদিক আলী আহমদ রিপন বিষয়টি রাজনগর থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পাশাপাশি
তৎকালীন রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ ফরিদ উদ্দিন ভূঁইয়াকে বিষয়টি জানান।
‎
‎সাংবাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থানা থেকে দূরে হওয়ায় সেখানে পুলিশ পৌঁছাতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ওসি ফরিদ উদ্দিন ভুঁইয়া তাকে জানান। এ কারণে শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
‎
‎ওসি ফরিদ উদ্দিন ভুঁইয়ার পরামর্শ অনুযায়ী সাংবাদিক শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর রাজনগর থানা থেকে একজন পুলিশ কর্মকর্তা এস আই অরূপ দাসকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়।
‎
‎পরবর্তীতে বিষয়টি র‍্যাবের গোয়েন্দা নজরে এলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর ভুক্তভোগীর মাকে থানায় গিয়ে অভিযোগ করার জন্য বলা হয়। পরে আইনগত প্রক্রিয়ায় মামলাটি হয় এবং অভিযোগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
‎
‎তাহলে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ কেন?
‎
‎ঘটনার ধারাবাহিকতায় প্রশ্ন উঠেছে—যে সাংবাদিক শুরু থেকেই পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধেই পরবর্তীতে কেন অভিযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলো?
‎
‎অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, এর পেছনে কাউছার মিয়ার স্থানীয় প্রভাব ও ব্যক্তিগত ক্ষোভ কাজ করতে পারে। তিনি
‎১নং ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ায় এলাকায় তাঁর প্রভাব রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
‎
‎এমনকি কাউছার মিয়া ওই প্রভাব ব্যবহার করে নিরীহ ও অসহায় পরিবারের সদস্যদের দিয়ে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করানোর চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
‎
‎
‎পুলিশের কাছে অভিযোগ নেওয়ার চেষ্টা, কেন গ্রহণ করা হয়নি?
‎
‎সাংবাদিক আলী আহমদ রিপনের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে কাউছার মিয়া গং এর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ থানায় দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগে তাঁকে জড়িয়ে মানহানিকর বিভিন্ন বক্তব্য উপস্থাপন করা হলেও রাজনগর থানা পুলিশ সেটি গ্রহণ করেনি।
‎
‎সাংবাদিকের দাবি, ঘটনার শুরু থেকে পুলিশ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিল এবং শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনাও পুলিশের জানা ছিল। এমনকি হাসপাতালে পুলিশ কর্মকর্তা পাঠানোর বিষয়টিও এ ঘটনার ধারাবাহিকতার অংশ।
‎
‎বিষয়টি মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার,মনিরুজ্জামান, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন তৌহিদুজ্জামান পাভেল,রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ ফরিদ উদ্দিন ভুঁইয়া এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও)বিপুল সিকদার  নজরেও রয়েছে বলে জানা গেছে। ইউএনও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখেছেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
‎
‎একজন নির্যাতিত শিশুকে হাসপাতালে নেওয়ার পর একজন সাংবাদিককে হুমকি-ধমকি দেওয়া এবং পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়ে থাকলে, তা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মানবিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির চাপ প্রয়োগের অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
‎
‎সাংবাদিক আলী আহমদ রিপন বলেন, আমি কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করিনি। একজন শিশু নির্যাতনের শিকার হওয়ার খবর পেয়ে প্রথমে পুলিশকে জানিয়েছি এবং পুলিশের পরামর্শেই শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে গেছি। এরপরও যদি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে এর পেছনের কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।
‎
‎তিনি আরও বলেন, আমার কাছে ভুক্তভোগীর স্বজনদের একাধিক বক্তব্য রয়েছে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সেগুলো উপস্থাপন করা হবে।

 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে  কাওসার মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
‎

ই-প্রিন্ট

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 ১২
৩৪৫৬৭৮৯
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১