কুষ্টিয়ায় অবৈধ ইটভাটার দৌরাত্ম চলছেই!


প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ২৬ জানুয়ারি, ২০২৪, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
কুষ্টিয়ায় অবৈধ ইটভাটার দৌরাত্ম চলছেই!

সামরুজ্জামান (সামুন), কুষ্টিয়া:কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে ইটভাটা। ফসলি জমিতে একের পর এক ইটভাটা গড়ে ওঠায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ার প্রভাবে ফসলহানির আশঙ্কা করছেন তারা।

এদিকে অধিকাংশ ভাটায় কয়লার পরিবর্তে অবাধে পোড়ানো হচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত কাঠ। এতে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে জনসাধারণ। এসব রোধে প্রশাসনিক তৎপরতার উপর গুরুত্ব দিয়েছে সচেতন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, জেলা জুড়ে রয়েছে ২০৬টির মতো ইটভাটা। এর ভিতরে ১৭৮টি ইটভাটা’ই অবৈধ রয়েছে। এর মধ্যে চাপড়া ইউনিয়নের লাহিনী পাড়া এলাকার দু’ধারে ফসলি জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে সাহেব-২ নামের ইটভাটা। বসতি ও আবাদি জমির আশপাশে ইটভাটা করা নিষিদ্ধ হলেও আবাদি জমিতে গড়ে উঠেছে এই ইটভাটাটি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কুমারখালী উপজেলার লাহিনী পাড়া গ্রামের রমজান আলীর মেসার্স সাহেব-২ ব্রিকস নামের ইটভাটাটির চারপাশে কৃষি জমি। স্থানীয় কৃষকদের আপত্তি উপেক্ষা করে ভাটাটি নির্মাণ করা হয়।

ইটভাটা সংলগ্ন এলাকায় কয়েকজন কৃষক বলেন, গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তারা ভাটা নির্মাণে বাধা দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রভাবশালীরা পরিবেশ অধিদপ্তরকে ‘ম্যানেজ’ করে ভাটা নির্মাণ করেন। ভাটার চুল্লি জ্বালানো হলে আশপাশের মাটি গরম হয়ে যায়। চিমনি দিয়ে ধোঁয়ার সঙ্গে ছাই বেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে ফসলসহ নানা জাতের ফলেরও।

ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ধান, গম, পেঁয়াজ, ভুট্টা’সহ ফলজ গাছ, বাঁশঝাড় ও সুপারি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন কৃষকরা। ইটভাটা থেকে বিষাক্ত ধোঁয়ায় আম, কাঁঠাল, লিচু, নারিকেল ও সুপারি গাছের পাতা বাদামি হয়ে গেছে বলে জানান তারা।

প্রতি বছর ফসলের ক্ষতি হওয়ায় ফসলি জমির মাঝখান থেকে ইট ভাটা সরিয়ে নিতে কৃষকরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আর্কাইভ