
শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষের কাছে রাষ্ট্রীয় সেবা ও সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রদত্ত সুবিধা যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার পিছিয়ে পড়া, অসহায় ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে। বিভিন্ন ভাতা, পুনর্বাসন ও সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নন, বরং দেশের সম্পদ। তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বিকাশের মাধ্যমে উৎপাদনশীল জনশক্তিতে পরিণত করতে সরকার নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
মাদক প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আপনি যতই উন্নয়ন করেন না কেন, ঘরে ঘরে যদি মাদকাসক্ত সন্তান থাকে, তাহলে সেই উন্নয়ন টেকসই হবে না। আপনার সন্তান যদি আপনার জন্য সম্পদ হয়, তবে সে দেশেরও সম্পদ; আর যদি বোঝা হয়, তবে দেশের জন্যও বোঝা।” তিনি একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নূরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন এবং মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।
মতবিনিময় সভায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন কার্যক্রমের বাস্তবায়ন, সেবার মানোন্নয়ন এবং সুবিধাভোগীদের কল্যাণ নিশ্চিতকরণ নিয়ে আলোচনা হয়। এতে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ছয়জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়। এ সময় উপকারভোগীরা সরকারের এ উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মুন্সীগঞ্জ নিয়ে আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন এখানে
আপনার মতামত লিখুন :