
শনিবার (২ মে) দুপুরে উপজেলার ছতরপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি শ্যামল বলেন, মাদক শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ ও পুরো প্রজন্মকে ধ্বংস করে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা মানবতার শত্রু এবং অর্থের জন্য তারা যেকোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, বিজয়নগরকে মাদক ও অনলাইন জুয়ামুক্ত করতে ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি ইউনিয়নে মাদকবিরোধী সমাবেশ আয়োজন করা হচ্ছে। এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং একটি সামাজিক আন্দোলন। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে সবাই কাজ করছে। এ আন্দোলনে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা এবং কোনো প্রভাবশালী মহলের চাপে আইন প্রয়োগে শিথিলতা না দেখানোর নির্দেশ দেন।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার শাহ আব্দুর রউফ বলেন, মাদক নির্মূল করা পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়; এ জন্য সামাজিকভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ইতোমধ্যে মাদকের স্পট চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠনের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে কেউ হুমকির শিকার হলে, হুমকিদাতা যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং পুলিশ সবসময় জনগণের পাশে থাকবে।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম, এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) মো. আতাউল্লাহ, জেলা মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাজেদুল হাসান, র্যাব-৯ সিপিসি-১ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোম্পানি কমান্ডার মো. নুরনবীসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ইমাম-মোয়াজ্জিন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে মাদক সমস্যার বিভিন্ন দিক ও করণীয় তুলে ধরেন।
আপনার মতামত লিখুন :