লালমনিরহাটের পাটগ্রামে সালিশ বৈঠকের পর যুবকের মৃ.ত্যু, জনমনে প্রশ্ন


মো. আব্দুর রাজ্জাক, লালমনিরহাট প্রকাশের সময় : ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ ৫৬
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে সালিশ বৈঠকের পর যুবকের মৃ.ত্যু, জনমনে প্রশ্ন

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে সালিশ বৈঠকের পর ফিরোজ হোসেন (২১) নামে এক যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে মারধর করে হত্যার অভিযোগ তুলে মহাসড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করা হলেও পরে থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নিহত ফিরোজ হোসেন পাটগ্রাম পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত দিনার হোসেনের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার (১ আগস্ট) পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে একটি সালিশ বৈঠকে ফিরোজকে দোষী সাব্যস্ত করে জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে তিনি জরিমানা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বৈঠকে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের দাবি, সালিশ বৈঠকের প্রায় দুই ঘণ্টা পর কয়েকজন ব্যক্তি ফিরোজের বাড়িতে গিয়ে আবারও তাকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাকে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং সেখান থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (৩ আগস্ট) তার মৃত্যু হয়।

ফিরোজের মৃত্যুর পর সোমবার সন্ধ্যায় স্বজন ও এলাকাবাসী মরদেহ নিয়ে ঢাকা-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেন। তারা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, হত্যা মামলা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

মানববন্ধনে নিহতের বড় ভাই ফেরদৌস হোসেন অভিযোগ করেন, পাটগ্রাম পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাফিউল ইসলাম (সামলু), ছাত্রদল নেতা স্বাধীন, স্থানীয় সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা শাহীন সাই ও তার ছেলে তুহীনসহ কয়েকজন সালিশ বৈঠকের নেতৃত্ব দেন। সালিশের সিদ্ধান্ত না মানায় ফিরোজকে প্রথমে বৈঠকে এবং পরে বাড়িতে গিয়ে মারধর করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তবে ঘটনার পর নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। কারণ, মানববন্ধনে হত্যার অভিযোগ তোলা হলেও পরে ফেরদৌস হোসেন থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, মারধর ও অপমানের কারণে ফিরোজ কীটনাশক পান করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা নথিভুক্ত করে।

স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল করিম বলেন, প্রথমে প্রকাশ্যে হত্যার অভিযোগ এবং পরে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে ফেরদৌস হোসেন বলেন, “আমি হত্যা মামলা করতে থানায় গিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ তা নেয়নি। পরে বিষপানের বিষয় উল্লেখ করে অভিযোগ দিলে সেটি গ্রহণ করা হয়। আমার ভাইকে মারধরের কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবব্রত রায় বলেন, ফিরোজের শরীরে বিষক্রিয়ার মাত্রা বেশি ছিল এবং হাসপাতালে আনার সময় থেকেই তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।

অভিযোগের পর থেকে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১