
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের সহসভাপতি স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাশ ব্রহ্মচারী জানান, চিন্ময়ের বড় ভাই রঞ্জন ধর মায়ের মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন। পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামেই তার মায়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাটহাজারীর মেখলে ধামে মারা যান চিন্ময়ের মা সন্ধ্যা রানী ধর। তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন এবং চিকিৎসাধীন ছিলেন। মঙ্গলবার তাকে পুণ্ডরীক ধামে নেওয়া হয়েছিল।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পারিবারিক নাম চন্দন কুমার ধর। ধর্মীয় দীক্ষা নেওয়ার পর তিনি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী নাম গ্রহণ করেন। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আট দফা দাবিতে সনাতনী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন কর্মসূচিতে মুখপাত্র হিসেবে বক্তব্য দেন চিন্ময় দাস। একই বছরের অক্টোবরে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হলে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে তার সমর্থকেরা প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে তাকে কারাগারে নিয়ে যায়।
এরপর আদালত এলাকায় সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তদন্তের পর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে প্রধান আসামি করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মোট আটটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলা চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। চারটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও অন্য মামলায় গ্রেপ্তার থাকায় এখনো তার কারামুক্তি হয়নি।
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :