অদৃশ্যমান শক্তিতে ফায়ার সার্ভিসের ডিএডি ফয়সালুর রহমানের ঢাকায় ২০ বছর!


প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ৩১ মে, ২০২৪, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
অদৃশ্যমান শক্তিতে ফায়ার সার্ভিসের ডিএডি ফয়সালুর রহমানের ঢাকায় ২০ বছর!

এম এস শবনম শাহীন: বিগত ৪০ বছর আগে ডিএডি পয়সাল রহমানের দাদা ফায়ার সার্ভিসের একজন লিডার ছিলেন, লিডার সাহেব তার পুত্রকে এলডি হিসেবে যোগদান করান।

তিনি পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে উচ্চমান সহকারী হন। ইউডি হয়ে গুরুত্বপূর্ণ শাখায় পোস্টিং নিয়ে কোটি কোটি টাকা কামান এবং তিন ছেলে মেয়েকে ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন পদের চাকরি প্রদান করেন। এর মধ্যে বর্তমানে খাদেম হিসেবে নিয়োগ আছেন ডিএডি ফয়সালুর রহমান। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি তিনি একটানা ২০ বছর যাবত যেই প্রশাসনে আসে তাকেই ম্যানেজ করে ফেলেন তার অলৌকিক ভেলকিতে।

উল্লেখ্য, নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য, সেফটি প্লান , বহুতল বানিজ্য ইত্যাদি নিয়ে সারাদিন ব্যস্ত থাকেন ফয়সালুর রহমান। স্ব-পরিবারে ফায়ারম্যান ম্যাচে ফ্রি খাওয়া-দাওয়া সকলেই অবগত, তবে মুখ ফুটে কেউ কিছু বলেন না। বিষয়টি মুখে না বললেও কানাঘুঁষা চলে নিত্যদিন। বদলির ভয়ে ও মাঠে সাজা দেওয়ার কারণে।

সম্প্রতি বেইলি রোডে কাচ্চি ভাই বিরানি হাউজে তার ভুল সিদ্ধান্তে ৫০ জন লোক মারা যায় এটা সকলেই জানে! এবং এই ঘটনাকেও চাপা দেওয়া হয়েছে ফয়সালুর রহমানের অদৃশ্য অলৌকিক শক্তিতে। ফয়সালুর রহমানের ঢাকাতে একটি গাড়ির শোরুম রয়েছে যা তার শশুরের নামে অথচ এটি তার। এছাড়াও ঢাকা শহরে তার একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে এটাও সকলে জানে!

তার আওতাধীন ০৫ টি স্টেশন আছে, কোন অফিসারকে সে ছুটি দেয়না। যদিও সাপ্তাহিক ছুটি দেওয়ার মহাপরিচালক মহোদয়ের নির্দেশ রয়েছে। টাকা দিলে সবকিছু ঠিক, কোন অফিসার ফয়সালুর রহমানের প্রতি বিন্দুমাত্র সন্তুষ্ট নয়! যেকোনো মূহুর্তে বিস্ফোরণ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই দু:খ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আগুন লাগলে ওয়াকিটকিতে খুব গরম করে ফেলে স্যারদের শোনায়, খুব কাজের! আসলে সে প্রকৃতপক্ষে ভূয়া! ডিজি মহোদয় যখন অফিসে ঢুকে সাধারণ ফায়ার ফাইটারদের খুব চাপে রাখেন তিনি।

শুধু তাই নয়, মাঠ কাপিয়ে ফেলে তাদেরকে শারীরিক ও মানসিক দুভাবে ঘায়েল করে রাখে শুধুমাত্র স্যারদের খুশি রাখার জন্য। এর জন্য ফায়ারম্যানরা খুব ক্লান্ত থাকে যার কারণে বড় ফায়ার কাজ করতে পারেনা।
ফয়সালুর রহমান আগুন লাগলে স্যারদের দেখানোর জন্য ছাদে উঠে, লেডারে উঠে, কার্নিশে উঠে, বুঝায় আমি অনেক পরিশ্রমী! আসলে সে বন্ধ খাদেম। এরকম আরো বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিসের একাধিক সদস্যরা।

ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের মতে ফয়সালুর রহমানকে অন্যত্র না সরলে হেডকোয়ার্টারে বিদ্রোহ হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তার আরেক ভাই ফরহাদুর রহমান যিনি ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার, যিনি সবসময় ডিজি মহোদয়ের নামে দুর্নাম করেন, যার একাধিক কল রেকর্ড রয়েছে। শুধু তাই নয় তিনি একজন বড় ফেনসিডিলখোর এটাও সকলে জানে।

আপন বোন অধিদপ্তরের তৃতীয় তলায় ইউডি হিসেবে কর্মরত আছেন। এভাবেই তারা ফায়ার সার্ভিসকে ৪০ বছর যাবৎ ব্যবহার করে যাচ্ছেন যা অমানবিক, আর এসব কাজে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন ভন্ড খাদেম ডিএডি ফয়সালুর রহমান। উক্ত বিষয়টি ফায়ার এন্ড সিভিল সার্জন এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই বাহিনীর কর্মচারী-কর্মকর্তাগণ।

আর্কাইভ