
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যায়ামের সময় আমরা সাধারণত শরীরের শক্তি বাড়ানো, সামনে এগোনো, ওজন তোলা বা চাপ দেওয়ার ওপর বেশি গুরুত্ব দিই। কিন্তু হাঁটা, দৌড়ানো কিংবা সিঁড়ি দিয়ে নামার মতো দৈনন্দিন কাজে শরীরকে নিরাপদে গতি কমাতে ও থামাতে হয়। এই নিয়ন্ত্রণকে শরীরের এক ধরনের ‘ব্রেকিং সিস্টেম’ হিসেবে দেখা যায়।
নিচে নামার সময় কেন হাঁটুতে বেশি চাপ পড়ে?
সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠার সময় পায়ের পেশি শরীরকে ওপরে তুলতে কাজ করে। কিন্তু নিচে নামার সময় একই পেশিগুলোকে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করে ধীরে ধীরে নামতে সাহায্য করতে হয়।
এ ধরনের নিয়ন্ত্রিত নড়াচড়ায় পেশিকে শুধু শক্তি উৎপাদন নয়, শক্তি শোষণ ও গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। এই সক্ষমতা যথেষ্ট না হলে হাঁটু ও আশপাশের জয়েন্টে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।
শুধু শক্তি বাড়ালেই হবে না
নিয়মিত ব্যায়াম অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। পায়ের পেশি শক্তিশালী হলে হাঁটুর ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে ব্যায়ামের রুটিনে শরীরকে কীভাবে নিরাপদে ধীরে থামানো যায়, সেই দক্ষতাও যুক্ত করা দরকার। হাঁটা বা দৌড়ানোর সময় হঠাৎ থামা, সিঁড়ি দিয়ে নামা কিংবা ভারসাম্য হারালে নিজেকে সামলে নেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে এই নিয়ন্ত্রণ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
কীভাবে অনুশীলন করবেন?
গতি কমানোর সক্ষমতা বাড়াতে কিছু সহজ অনুশীলন করা যেতে পারে। যেমন—
ধীরে ধীরে স্কোয়াটে নামা ও আবার উঠে আসা
সিঁড়ি থেকে নিয়ন্ত্রিতভাবে নিচে নামার অনুশীলন
এক পায়ে দাঁড়িয়ে ভারসাম্য ধরে রাখার অনুশীলন
হাঁটা বা হালকা দৌড়ের পর নিয়ন্ত্রিতভাবে গতি কমানো
তবে ব্যায়ামের সময় হাঁটুতে ব্যথা হলে জোর করে চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়। বয়স, শারীরিক সক্ষমতা ও আগের আঘাতের ইতিহাস অনুযায়ী অনুশীলনের মাত্রা ঠিক করা জরুরি। নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং পায়ের পেশি শক্তিশালী করার পাশাপাশি সঠিক কৌশলে শরীরের গতি নিয়ন্ত্রণের অভ্যাস হাঁটুর ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
তবে দীর্ঘদিনের হাঁটুর ব্যথা, ফুলে যাওয়া, জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া বা হাঁটাচলায় সমস্যা থাকলে নিজে নিজে ব্যায়াম শুরু না করে চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো। সূত্র: সিএনএন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :