
গবেষণা বলছে, এই মানসিক শ্রমের বড় অংশই অনেক পরিবারে মায়েদের ওপর পড়ে। ফলে বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে ভেতরে তারা সারাক্ষণ নানা কাজের পরিকল্পনা ও চিন্তার মধ্যে থাকেন।
সন্তানের স্কুলের নোটিশ দেখা, অভিভাবকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের আপডেট রাখা, স্কুলের অনুষ্ঠান বা শিক্ষা সফরের তারিখ মনে রাখা, ঘরে কী কী প্রয়োজন তা খেয়াল করা কিংবা কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে—এসব ছোট ছোট দায়িত্ব একসঙ্গে বড় মানসিক চাপ তৈরি করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ৩ হাজার অভিভাবকের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক শ্রম প্রয়োজন এমন পারিবারিক কাজের প্রায় ৭১ শতাংশ মায়েরা সামলান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তানের জন্মের পর থেকেই অনেক পরিবারে মা ধীরে ধীরে পরিবারের ‘ডিফল্ট প্যারেন্ট’ হয়ে ওঠেন। সন্তানের প্রয়োজন ও দৈনন্দিন বিষয়গুলো সম্পর্কে মা বেশি জানেন বলে পরিবারের অন্য সদস্যরাও নানা সিদ্ধান্তের জন্য তাঁর ওপর নির্ভর করতে শুরু করেন। কর্মজীবনে ফিরে যাওয়ার পরও সেই দায়িত্ব অনেক সময় কমে না।
সমস্যাটি আরও বাড়ে যখন একজন সঙ্গী শুধু ‘কাজটি করে দেওয়া’কে দায়িত্ব মনে করেন। কারণ কাজটির পেছনে কী পরিকল্পনা করতে হবে, কখন করতে হবে এবং কী কী প্রয়োজন—এসব চিন্তার দায়িত্ব তখনও অন্যজনের ওপর থেকে যায়।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, দীর্ঘদিনের এই অদৃশ্য চাপ ঘুমের সমস্যা, বিরক্তি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্লান্তি এবং মানসিক অবসাদের মতো সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
তাই সংসারের দায়িত্ব ভাগ করার অর্থ শুধু রান্না, বাজার বা সন্তান দেখাশোনার কাজ অর্ধেক করে নেওয়া নয়। কোন কাজ কখন করতে হবে—সেই পরিকল্পনা ও চিন্তার দায়িত্বও ভাগ করে নেওয়াই প্রকৃত অর্থে দায়িত্ব ভাগাভাগি।
আর সেখানেই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ—সংসার দুজনের হলে, তার অদৃশ্য বোঝাটাও কি দুজনের হওয়া উচিত নয়?
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :