গ্রেফতারি পরোয়ানার মধ্যেই নেপালে ফিরলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা


লাখোকণ্ঠ অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ ৩৮
গ্রেফতারি পরোয়ানার মধ্যেই নেপালে ফিরলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা

দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকার মধ্যেই নেপালে ফিরেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ৮০ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিক কাঠমান্ডুতে ফেরেন।

দেউবা তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। দেশে ফেরার পর কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে সড়কের পাশে জড়ো হওয়া শত শত সমর্থককে হাত নেড়ে ও হাসিমুখে অভিবাদন জানান তিনি। তাঁকে স্বাগত জানাতে সমর্থকদের একটি সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়।

নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেউবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি অর্থ পাচার তদন্ত বিভাগ তদন্ত করছে। গ্রেফতারের বিষয়ে সিদ্ধান্তও সংশ্লিষ্ট তদন্ত বিভাগের এখতিয়ারে রয়েছে।

গত এপ্রিলে অর্থ পাচারের অভিযোগে দেউবার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশটির কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই তার বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

চিকিৎসার জন্য গত ফেব্রুয়ারিতে নেপাল ছাড়েন দেউবা। প্রায় ছয় মাস বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরলেন তিনি। পাঁচবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেউবা তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) থেকে শুরু হতে যাওয়া তার দল নেপালি কংগ্রেসের তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে তিনি অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

দেউবার স্ত্রী ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবার বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে তরুণদের নেতৃত্বে প্রাণঘাতী আন্দোলনের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহ বিপুল জয় পাওয়ার প্রায় এক মাস পর দেউবা দম্পতির বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করা হয়।

বালেন্দ্র শাহ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশটির দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর আগে ২০২৫ সালের আন্দোলন দমনে সহিংসতার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও গত মার্চে স্বল্প সময়ের জন্য গ্রেফতার করা হয়েছিল।

নেপালের তরুণদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া ওই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ থেকে। পরে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে মানুষের ক্ষোভ এতে যুক্ত হয়। একপর্যায়ে আন্দোলন সহিংস রূপ নিলে সংসদ ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় আগুন দেওয়া হয় এবং সরকারের পতন ঘটে। এ সময় দেউবার বাসভবনেও আগুন দেওয়া হয়। দেউবা ও তার স্ত্রীকে হামলার ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

আন্দোলনের সময় দেউবার বাসভবন থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের দাবিতে কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে তদন্ত কমিশনের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে দেউবা এসব ভিডিওকে ভুয়া ও ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দাবি করেন। তার সম্পত্তি থেকে কথিত অর্থ উদ্ধারের বিষয়টি আরও তদন্তের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিশন।

দেউবার দেশে ফেরার পর এখন তার বিরুদ্ধে থাকা গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করা হবে কি না, সেটিই নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে নেপালি কংগ্রেসের সম্মেলনে তাঁর অংশগ্রহণও দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সূত্র: এএফপি

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন

Google-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

Google-এ পড়ুন লাখোকণ্ঠের খবর 

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১