
আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শুক্রবারের (১৮ জুন) প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, হামলাগুলো বৃহস্পতিবার চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আবারও হুমকিতে পড়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উভয় দেশ বেশ কয়েকবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। চীনের নেতৃত্বে মধ্যস্থতাকারীরা এখনও পর্যন্ত কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি করতে পারেনি।
আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানায়, পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে থাকা গোপন আস্তানাগুলোতে বৃহস্পতিবার রাতে ‘বিমান বাহিনী’ হামলা চালানো হয়েছে। এ দুটি প্রদেশেরই আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এ “আস্তানাগুলো কিছু শত্রুভাবাপন্ন গোয়েন্দা চক্রের” সহযোগিতায় আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা ও সংঘটনে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। এখানে অবশ্য পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাকে ইঙ্গিত করা হয়।
পাকিস্তান ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে। এ ধরনের গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে বহুবার বিমান হামলা চালিয়েছে বলেও দাবি করেছে পাকিস্তান। আফগানিস্তান অবশ্য সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
কয়েক মাসের মধ্যে কাবুলের দায় স্বীকার করা প্রথম বড় ধরনের বৃহস্পতিবারের এ হামলাটি কীভাবে চালানো হয়েছিল, কাবুল তা নির্দিষ্টভাবে জানায়নি।
লন্ডন-ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের কোনো যুদ্ধবিমান নেই, তবে দেশটির অন্তত ছয়টি বিমান এবং ২৩টি হেলিকপ্টার রয়েছে বলে জানা গেছে। তালেবান বাহিনীর কাছে ড্রোনও রয়েছে, যা পাকিস্তানের সঙ্গে লড়াইয়ে ব্যবহৃত হয়েছে।
গত মে মাসে জাতিসংঘ জানায়, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে আন্তঃসীমান্ত সংঘর্ষে অন্তত ৩৭২ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৩৯৭ জন আহত হয়েছেন।
গত সপ্তাহে আফগানের প্রদেশগুলোতে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। আফগান তালেবানের ভাষ্যমতে, ওই সময়ের হামলায় ১১ শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছে।
ইসলামাবাদ বলেছে, ওই ‘পরিকল্পিত হামলায়’ সশস্ত্র সংগঠনের ২৬ জন নিহত হয়েছে। এটি পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলার একটি জবাব ছিল।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, আফগানিস্তান তার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি কোনো হুমকি আর বরদাশত করবে না। যেকোনো হুমকিকে তার উৎসস্থলে নিষ্ক্রিয় ও নির্মূল করতে দেশটি সব উপায় ও সক্ষমতা ব্যবহার করবে।
আপনার মতামত লিখুন :