রায়পুরে ছোট ভাই দেলোয়ার মৃধা হাতে বড় ভাই সাইফুল আলম মৃধা খুন


প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ১ অক্টোবর, ২০২৩, ৭:২৯ অপরাহ্ণ
রায়পুরে ছোট ভাই দেলোয়ার মৃধা হাতে বড় ভাই সাইফুল আলম মৃধা খুন

রায়পুর ও লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: বড় ছেলে থাকেন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে। সেখানে ছেলের কাছে যাবেন বলে ঢাকা থেকে পাসপোর্ট করতে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন সাইফুল আলম মৃধা (৫৬)। বাড়িতে এসে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক থেকে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। উত্তেজিত ছোট ভাই দেলোয়ার হোসেন  মৃধা (৪৫)  দা নিয়ে ছুটে এসে আঘাত করেন বড় ভাই সাইফুলকে।

মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া সাইফুলকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। এ ঘটনার আকস্মিকতায় পরিবারের সদস্যরা শোকে বিহ্বল। সামান্য কথা–কাটাকাটি ভাতৃঘাতী সংঘাতে রূপ নেবে, তা কেউ ভাবতে পারছেন না।

গতকাল শনিবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটেছে। লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নের বামনী গ্রামে এ্যাডভোকেট আমির হোসেন মৃধা ও এ্যাডভোকেট মতিন মৃধার ছোট ভাই তারা। ছোট ভাই দেলোয়ার হোসেন মৃধার দায়ের কোপে গুরুতর আহত সাইফুল আলমের উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বজনেরা গতকাল রাতেই ঢাকায় রওনা দেন। কিন্তু পথেই মৃত্যু হয় তাঁর।

ঘটনার পরপর দেলোয়ার হোসেন ও তাঁর পরিবারের লোকজন পালিয়ে যান। তবে পুলিশ রাতেই দেলোয়ারের শ্যালিকা নিশু বেগমকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সেখানে লাশের ময়নাতদন্ত হবে।

নিহত সাইফুল আলম মৃধার ছেলে সাদ্দাম হোসেন মৃধা বলেন, তাঁর বাবাসহ পরিবারের সবাই ঢাকায় বসবাস করেন। তাঁর বড় ভাইয়ের কাছে লন্ডনে যাওয়ার কথা ছিল বাবার। এ জন্য তাঁরা গত বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে পাসপোর্ট করার জন্য গ্রামে আসেন। গ্রামের বাড়ির জমি তাঁর চাচা দেলোয়ার হোসেন দখল করে রেখেছেন। এই নিয়ে গতকাল বিকেলে তাঁর বাবা সাইফুল আলমের সঙ্গে দেলোয়ার হোসেনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দেলোয়ার তাঁর বাবার মাথায় দা দিয়ে কোপ দেন। এ সময় দেলোয়ারের সঙ্গে আরও চার থেকে পাঁচজন দুর্বৃত্ত ছিল।

নিহতের ছেলে সাদ্দাম হোসেন বলেন দেলোয়ার রায়পুরের নামকরা চাঁদাবাজ। সে কথিত সাংবাদিক হিসেবে তিন-চার জনের একটি গ্রুপ নিয়ে মানুষকে ভয়ভিতি দেখিয়ে,মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজী করে আসছেন, এই ছাড়াও সে গত এক বছরে ৮-৯ বার কাতারে তার বাতীজা নেওয়াজ কবির বাবুল, রিয়াজ কবির সহেলের কাছে আসা যাওয়া করেছে। আমরা সুনেছি দেলোয়ার বাতিজাদেরর সাথে সে দেশ বিরোধী মানবপাচার ও হুন্ডি ব্যবসার সাথে জড়িত।  ভাতিজা বাবুল,সহেলও সে কয়েক বছরে লাখ লাখ টাকার মালিক বনে গেছেন। দেলোয়ারের ছেলেও কাতারে আসা যাওয়া করে । বাতিজাদের শক্তিও টাকার গরমে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সে। ঘটনার দিন ও সে তিন চারজন কথিত সাংবাদিক নামধারী চাঁদাবাজ নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায় ।

নিহত সাইফুল আলমের ছোট ভাই জাকির হোসেন মৃধা বলেন, ‘দেলোয়ার নিষ্ঠুরভাবে কুপিয়ে জখম করেছে বড় ভাইকে। আমরা তাঁকে উদ্ধার করে রায়পুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। সন্ধ্যায় তাঁর অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।’

রায়পুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সামসুল আরেফিন সাংবাদিকদের বলেন, জমি দখল নিয়ে বড় ভাই সাইফুল আলমের সঙ্গে ছোট ভাই দেলোয়ার হোসেনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সাইফুলকে কুপিয়ে জখম করেন দেলোয়ার। পরে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। একজনকে আটক করা হয়েছে।

আজ বিকেলে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাপন করা হয়। মূল আসামী গ্রেপ্তার না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা ও এলাকাবাসী খোব জানান।

 

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১