
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মনিরুল ওই গ্রামের লিয়াকত ইসলাম ওরফে নেংটের ছেলে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বর্ণ পাচারের উদ্দেশ্যে মনিরুলসহ সাতজন সীমান্তের কাঁটাতারের কাছাকাছি এলাকায় যান। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাঁদের দেখতে পেয়ে গুলি ও রাবার বুলেট ছোড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে মনিরুলের পায়ে গুলি লাগে এবং পিঠের বিভিন্ন স্থানে রাবার বুলেটের আঘাত লাগে। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যরা পাশের খালের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যান। পরে বিএসএফ সদস্যরা আহত মনিরুলকে ধরে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যান বলে স্থানীয়দের দাবি।
মনিরুলের সঙ্গে থাকা অন্য ব্যক্তিরা হলেন কামাল উদ্দিনের ছেলে রাশেদ (৩২), তৈয়ব আলীর ছেলে আনিছ (৩৫), বগের ছেলে সোহান (২৫), কিনার উদ্দিনের ছেলে শাওন (২৬), মৃত বদরুদ্দিনের ছেলে মিন্টু (৩৮) এবং মতেহার হোসেনের ছেলে মশিয়র (৪০)।
হরিহরনগর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য টিটু জানান, সন্ধ্যার পরপরই সীমান্তবর্তী কাঁটাতারের কাছ থেকে গুলির শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। পরে তিনি জানতে পারেন, মনিরুল ইসলামকে বিএসএফ আহত অবস্থায় ধরে নিয়ে গেছে। তবে তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, তাঁরা ঘটনাটি শুনেছেন। তবে প্রশাসনিকভাবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরিহরনগর সীমান্তে গুলির পর বিএসএফ একজনকে নিয়ে গেছে—এমন খবর তাঁরা পেয়েছেন। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় তখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং বিএসএফকে পতাকা বৈঠকে বসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :