জবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সং.ঘ.র্ষ: জকসু প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও শিক্ষকসহ আহত অন্তত ২০


জবি প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ ৩৬
জবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সং.ঘ.র্ষ: জকসু প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও শিক্ষকসহ আহত অন্তত ২০

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) প্রতিনিধি, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও শিক্ষকসহ অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং মেডিকেল সেন্টারের সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যরা প্ল্যাকার্ড হাতে অনুষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষে জকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানা, আইনবিষয়ক সম্পাদক ফারুক এবং সদস্য আব্দুল্লাহ আল ফারুক আহত হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। এছাড়া জবি শাখা ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহীন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌসে শেখ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসিভসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের আরও কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসান এবং জবি প্রেস ক্লাবের একাধিক সদস্যও রয়েছেন। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে সুহায়েল আহমেদ, মোহন খন্দকার, আব্দুল্লাহ আল মামুন, রজব আল ফাহিম, কামরুজ্জামান কায়েস ও জুয়েল মিয়ার নাম জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করেন। সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে কয়েকজন আহত ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে দেখা যায়। তবে ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার পর বিভিন্ন পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে দায় চাপায়। জকসু ও ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিনিধিদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরতে শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের সময় তাদের বাধা দেওয়া হয় এবং পরে হামলার শিকার হতে হয়। অন্যদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর এসব বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছে এবং ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন ও দায়ীদের শনাক্ত করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন

Google-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

Google-এ পড়ুন লাখোকণ্ঠের খবর 

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১