
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৮০ হাজার ৬৬৩ জন দর্শকের সামনে জোড়া গোল করে ফুটবল ইতিহাসের নতুন এক চূড়ায় পা রাখলেন ২৭ বছর বয়সি এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। এই ম্যাচের আগে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা ছিল ৮। প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিটে চোখধাঁধানো এক ‘ক্রসওভার স্টেপে’ সুইডিশ ডিফেন্ডার ভিক্টর ইয়োকেরেসকে বোকা বানিয়ে যখন প্রথম গোলটি করলেন, তখনই ভাঙল কিংবদন্তিদের সেই রেকর্ড।
পরে দ্বিতীয়ার্ধের ৭৪ মিনিটে আরও এক গোল করে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজের গোলসংখ্যাকে নিয়ে গেলেন ১০-এ। ৮৫ মিনিটে যখন এই ফরাসি জাদুকরকে তুলে নেয়া হয়, তখন স্বয়ং কোচ দিদিয়ের দেশম মাথা নত (বো) করে তাকে মাঠের রাজকীয় অভিবাদন জানান।
রেকর্ড গড়ার পর এমবাপ্পের উদ্যাপনটি অবশ্য ছিল ভীষণ আবেগের। মায়ের মৃত্যুর কারণে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের ডাগআউটে ছিলেন না কোচ দেশম। আজ তিনি ডাগআউটে ফিরতেই প্রথমার্ধের গোলটি করে মাঠের সব উদ্যাপন ভুলে এমবাপ্পে ছুটে যান এবং জড়িয়ে ধরেন তার শোকাতুর প্রিয় গুরুকে।
চলতি বিশ্বকাপে ৪ ম্যাচে এটি এমবাপ্পের তৃতীয় জোড়া গোলের প্রদর্শনী। আসরে তার মোট গোল এখন ৬টি, যা তাকে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির পাশে বসিয়েছে। একই সঙ্গে মাত্র ১৮টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলে এমবাপ্পের মোট গোল সংখ্যা এখন ১৮। বিশ্বমঞ্চের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মেসির (১৯ গোল) রেকর্ড স্পর্শ করা থেকে তিনি এখন মাত্র ১ গোল দূরে আছেন।
স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় ম্যাচ শুরুর সময় নিউ জার্সির তাপমাত্রা ছিল ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট)। তীব্র গরম, আর্দ্রতা আর অস্বাস্থ্যকর বাতাস সত্ত্বেও মাঠের ফুটবলে সুইডেনকে পাত্তাই দেয়নি ফরাসিরা। পুরো ম্যাচে সুইডেনের ৭টি শটের বিপরীতে ফ্রান্স শট নিয়েছে ২৫টি। প্রথমার্ধের পানি পানের বিরতিতে (হাইড্রেশন ব্রেক) ফ্রান্সের ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়েকে মাঠের স্প্রিংকলারের পানি দিয়ে শরীর ভিজিয়ে নিতে দেখা যায়।
ম্যাচের শুরু থেকেই ভাগ্য ফ্রান্সের পক্ষে ছিল না। ৩২ মিনিটে এমবাপ্পের শট এবং ৩৬ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে মাইকেল ওলিসের দুর্দান্ত এক বাইসাইকেল কিক পোস্টে লেগে প্রতিহত হলে হতাশ হতে হয় ফরাসিদের। তবে ৪৫ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন এমবাপ্পে। ওলিসের কর্নার থেকে উসমান দেম্বেলের পাস পেয়ে প্রথম গোলটি করেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফ্রান্স। অরেলিয়াঁ চুয়ামেনির পাস থেকে বল পেয়ে সুইডিশ ডিফেন্ডার গুস্তাফ ল্যাগারবিয়েলকের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে চমৎকার পাসে বল বাড়ান ওলিসে, যা থেকে দারুণ ফিনিশে গোল করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। এরপর ৭৪ মিনিটে এমবাপ্পের ব্যাকহিল থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে বারকোলা ও ওলিসের পা ঘুরে বল পান এমবাপ্পে। বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি নিশ্চিত করেন ফরাসি অধিনায়ক। ম্যাচে গোল না পেলেও অ্যাসিস্টের ‘হ্যাটট্রিক’ করে ফ্রান্সের আক্রমণের প্রাণভোমরা ছিলেন এই ওলিসে।
গ্রুপ পর্বে শতভাগ সাফল্যের পর নকআউটেও এমন দাপুটে সূচনা করে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল ফ্রান্স। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী ৪ জুলাই ফিলাডেলফিয়াতে শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে ফরাসিরা।
আপনার মতামত লিখুন :