মৌলভীবাজারের হাওরে কৃষকের ‘অশ্রু’ মেশা পচা ধান : আহার এখন পানির নিচে


মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ৫ মে, ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ণ
মৌলভীবাজারের হাওরে কৃষকের ‘অশ্রু’ মেশা পচা ধান : আহার এখন পানির নিচে
মোঃ আব্দুল কালাম মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি :
মৌলভীবাজারের হাকালুকি ও কাউয়া দিঘি হাওরসহ ছোট-বড় বেশ কিছু এলাকায় এখন উৎসবের বদলে চলছে হাহাকার। আগাম বন্যায় তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান। গত কয়েকদিন ধরে পাহাড়ি ঢল আর অতিবৃষ্টিতে হাওরের পানি ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে পানির নিচে তলিয়ে থাকা আধপাকা ও পাকা ধান পচে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ।
সরেজমিনে তদন্ত করে দেখা গেছে, অনেক কৃষক সর্বস্ব হারিয়ে এখন দিশেহারা। যারা ধান কেটে বাড়ির উঠানে স্তূপ করে রেখেছিলেন, টানা বৃষ্টিতে সেগুলোও অঙ্কুরিত হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। পচা গন্ধ ছড়ানো ধান থেকে আর চাল হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবুও পেটের তাগিদে অনেক কৃষককে দেখা গেছে কোমর সমান বা বুক সমান পানির নিচ থেকে ডুব দিয়ে পচা ধান কেটে আনতে।
কৃষক রহিম মিয়া জানান, “পুরো বছরের খোরাকি ছিল এই জমিটুকু। চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল। এখন পানির নিচ থেকে যা পারছি তুলে আনছি, কিন্তু রোদের অভাবে তাও শুকাতে পারছি না। এই পচা চাল খাওয়া তো দূরের কথা, গবাদি পশুকে খাওয়ানোর উপযুক্তও নেই।”
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, হাওরের পানি নিস্কাশনের একমাত্র পথগুলো পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নামতে পারছে না। পাশাপাশি স্থানীয় বাঁধগুলোর দুর্বল ব্যবস্থাপনা কৃষকের এই দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করা হলেও, তাৎক্ষণিক ত্রাণ বা সহযোগিতা না পৌঁছানোয় কৃষকদের ক্ষোভ বাড়ছে।
মৌলভীবাজারের হাওর পাড়ের গ্রামগুলোতে এখন কোনো ঘরের চুলা ঠিকমতো জ্বলছে না। বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া এই কৃষকদের প্রশ্ন—আগামী দিনগুলোতে তারা পরিবার নিয়ে কী খাবেন? হাওরের এই নীরব কান্না এখন যেন চারপাশের ভারী বাতাসের সঙ্গে মিশে আছে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১