
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে হৃদয় হোসেন ও তাঁর অংশীদার ইমরান হোসেন রতন দুই বছরের জন্য একটি পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছিলেন। সম্প্রতি লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত দুই দিন ধরে পুকুরের পানি সেচ দিয়ে মাছ ধরার কাজ চলছিল।
শুক্রবার সকালে পুকুরে অল্প কিছু পানি অবশিষ্ট থাকায় মোটরের সাহায্যে পানি সেচের শেষ কাজ চলছিল। এ সময় মোটরে পানি না আসায় হৃদয় সেটি উঁচু করে ধরার চেষ্টা করেন। তখন বিদ্যুতের সংযোগে শর্টসার্কিট হলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
নিহতের অংশীদার ইমরান হোসেন রতন বলেন, “শেষ মুহূর্তে হৃদয় আমাকে বলে, ‘তোরা মাছ বিক্রি কর, আমি বাকি পানি সরিয়ে দিচ্ছি।’ পরে হঠাৎ বিদ্যুৎ বোর্ডে আগুনের ফুলকি দেখা যায়। হৃদয় চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।”
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে আলমডাঙ্গার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় পুকুরপাড়ে মাছ দেখতে ও কিনতে অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। হৃদয়ের চিৎকার শুনে সবাই ছুটে এলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হৃদয় অত্যন্ত ভদ্র, পরিশ্রমী ও মানবিক একজন যুবক ছিলেন। এলাকার সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্বজনেরা জানান, মাত্র দুই মাস আগে হৃদয়ের বাবা খন্দকার এনামুল হক মারা যান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন হৃদয়। বাবার মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই পরিবারের ওপর নেমে এলো আরেকটি বড় বিপর্যয়।
হৃদয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতজনদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রতিবেশীরাও তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
চুয়াডাঙ্গার আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন এখানে
আপনার মতামত লিখুন :