
সোমবার (১ জুন) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামে দর্শকনন্দিত চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
এর আগে গত ৩০ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী স্থগিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি। একই দিন রাতে কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামে প্রশাসনের উপস্থিতিতে সিনেমাটির প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
মানববন্ধনে রুমিন ফারহানা বলেন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখার মতো একটি সিনেমা কেন বন্ধ করে দেওয়া হলো, সেটি বোধগম্য নয়। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “যে রাষ্ট্র ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও বলাৎকার থেকে রক্ষা করতে পারে না, যে রাষ্ট্র দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও ব্যাংক লুট বন্ধ করতে ব্যর্থ, সেই রাষ্ট্র কেন একটি সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধে মদদ দেয়?”
তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে দেশে একের পর এক মাজার ভাঙচুর, কবর থেকে মরদেহ তুলে পোড়ানোর মতো ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি উগ্রবাদের উত্থানও দেখা গেছে। অথচ বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ছিল ভিন্নধর্মী।
রুমিন ফারহানা বলেন, “এই দেশে যেমন কোরআন তিলাওয়াতের ধ্বনি শোনা যায়, তেমনি সাংস্কৃতিক চর্চাও চলে। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি—দুটিই এ দেশের ঐতিহ্যের অংশ। তাহলে কারা বাংলাদেশকে মৌলবাদের ভূমিতে পরিণত করতে চায়, সেই প্রশ্ন আজ সামনে এসেছে।”
তিনি আরও বলেন, অপরাধ দমন ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ রাষ্ট্র যদি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেয়, তবে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়ার শামিল।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রহমান, জেলা ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি ফাহিম মুনতাসির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইফতিকার জাবেদ এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দুর্জয় মাহমুদ।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নিয়ে আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন এখানে
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্র নিয়ে আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন এখানে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন এখানে
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :