
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ভবনটি নির্মাণ করে। পাঁচতলা ভবনে রয়েছে ৪৫টি দোকান, দুটি ভিআইপি কক্ষ, একটি ফুড কোর্ট, কিডস কর্নারসহ বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা। প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য স্থায়ী বিপণিবিতান গড়ে তোলা। পাশাপাশি পর্যটননির্ভর বান্দরবানে স্থানীয় হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণেরও পরিকল্পনা ছিল।
কিন্তু নির্মাণ শেষ হওয়ার পর প্রশাসনিক জটিলতা, দায়িত্ব হস্তান্তরে বিলম্ব এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে ভবনটি চালু করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ভবনের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত। সেখানে গবাদিপশুর বিচরণ এবং রাতে অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও মাদকসেবীদের আনাগোনা দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাদশা বলেন, বছরের পর বছর ভবনটি অব্যবহৃত থাকায় এটি নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত চালু করা হলে নারী উদ্যোক্তারা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি সরকারি সম্পদেরও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
আরেক বাসিন্দা মো. সবুর বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ হলেও সাধারণ মানুষ কোনো সুফল পাচ্ছেন না। দ্রুত দোকান বরাদ্দ দিয়ে কার্যক্রম শুরু করা প্রয়োজন।
গুংগুরুপাড়া উপজাতীয় মহিলা উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি লাক্রাই খেয়াং বলেন, পার্বত্য এলাকার অনেক নারী হস্তশিল্প, তাঁতের কাপড় এবং বাঁশ-বেতের পণ্য তৈরি করেন। কিন্তু বিক্রির জন্য তাদের স্থায়ী কোনো স্থান নেই। জয়িতা ভবন চালু হলে এসব নারী স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন।
জয় একতা মহিলা কল্যাণ সমিতির সভাপতি উম্মে কুলসুম খুখী (সাথী) বলেন, জয়িতা ভবনটি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সম্ভাবনাময় উদ্যোগ ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন চালু না হওয়ায় তারা হতাশ। ভবনটি চালু হলে জেলার নারী উদ্যোক্তারা স্থায়ীভাবে পণ্য বিক্রির সুযোগ পাবেন।
জানা গেছে, বান্দরবান সদর উপজেলায় নিবন্ধিত অন্তত ৬৪টি মহিলা সমিতির প্রায় দুই হাজার নারী উদ্যোক্তা একটি স্থায়ী বিপণিবিতানের অপেক্ষায় রয়েছেন। বর্তমানে তাঁদের অনেকেই বিভিন্ন মেলা বা অস্থায়ী স্টলে পণ্য বিক্রি করেন।
এদিকে ভবনটি সংস্কার ও চালুর জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রায় দেড় কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত। তবে বরাদ্দ অনুমোদনের পরও সংস্কারকাজ শুরু হয়নি।
এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াছির আরাফাতের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বান্দরবান জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুপন চাকমা বলেন, জয়িতা ভবন চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নারী উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে বিপণিবিতান পরিচালনার পরিকল্পনা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে সমস্যাগুলো সমাধানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, সম্প্রতি জেলা প্রশাসক ভবনটি পরিদর্শন করে দ্রুত চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে দ্রুত ভবনটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে জয়িতা ভবন দ্রুত চালু করা হলে নারী উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের পাশাপাশি পর্যটননির্ভর বান্দরবানের স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :