
পাবউবো সূত্র জানায়, ৫ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রায় সব উপজেলায় পাহাড়ধস, আকস্মিক বন্যা এবং সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সড়কগুলো।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত পাঁচ দিনে বান্দরবানে ৮৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এর মধ্যে টানা ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সর্বোচ্চ রেকর্ড।
উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তাদের নির্মিত ৩০৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ ৫১টি সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং ও আরসিসি অংশ ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কালভার্ট, ড্রেন ও রিটেইনিং ওয়াল। পাশাপাশি বহু স্থানে ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে।
এসব ক্ষয়ক্ষতির কারণে অনেক সড়কে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের একাংশ ধসে যাওয়ায় সীমিতভাবে যানবাহন চলাচল করছে। এতে দুর্গম এলাকার মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষিপণ্য পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে, যা দুর্গম এলাকার সঙ্গে জেলা শহরের যোগাযোগ আবারও বিচ্ছিন্ন করতে পারে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান ইউনিট জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত ও সংস্কারের জন্য প্রায় ২০ কোটি ৮৫ লাখ টাকার প্রয়োজন। দ্রুত অর্থ বরাদ্দ ও সংস্কারকাজ শুরু না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও জীবন-জীবিকার প্রধান ভরসা এসব সড়ক। তাই নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা জরুরি।
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :