নওগাঁর মহাদেবপুরে ফিডমিলে কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, পরিবেশ অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন


খোরশেদ আলম, নওগাঁ প্রকাশের সময় : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ ৯৫
নওগাঁর মহাদেবপুরে ফিডমিলে কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, পরিবেশ অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়নে বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মাঝখানে স্থাপিত আল-মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি মাছের খাবার তৈরির প্রতিষ্ঠানে বিপুল পরিমাণ কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা কাঠ ও গাছপালা এনে কারখানায় পোড়ানো হচ্ছে। এতে ধোঁয়া ও ছাই ছড়িয়ে পড়ায় পরিবেশ ও কৃষিজমি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মাতাজি বটতলী থেকে নওগাঁ শহরের দিকে যাওয়ার পথে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সড়কের পাশে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান। চারদিকে কৃষিজমি থাকলেও কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরকারি নথিতে রাইগাঁ, মহাদেবপুর ঠিকানায় আল-মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি মাছের খাদ্য প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের তথ্য পাওয়া যায়। নথিতে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী হিসেবে মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের নামও রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানায় কাঠ পোড়ানোর কারণে আশপাশের এলাকায় ধোঁয়া ও ছাই ছড়িয়ে পড়ছে। তাদের আশঙ্কা, এভাবে কাঠ ব্যবহারের ফলে পরিবেশের পাশাপাশি কৃষিজমি ও ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে কারখানার কার্যক্রমের সঙ্গে কৃষিজমিতে ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

পরিবেশগত অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন

কারখানাটির পরিবেশগত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের পর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর, নওগাঁ কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে নওগাঁ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হোসাইন জানান, আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি কারখানায় কাঠ পোড়ানোর বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।

এখন প্রশ্ন উঠছে—পরিবেশগত অনুমোদনের আবেদন যদি সম্প্রতি করা হয়ে থাকে, তাহলে এর আগে প্রতিষ্ঠানটি কোন অনুমোদনের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করছিল? আর কৃষিজমির মধ্যে অবস্থিত একটি কারখানায় বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিয়মিত নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল?

মাছের খাবার উৎপাদন নিয়েও প্রশ্ন

কারখানাটিতে মাছের খাবার উৎপাদন ও বাজারজাত নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিপুল পরিমাণ মাছের খাবার তৈরি করে বাইরে বিক্রি করছেন।

এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি মাছের খাবার তৈরিতে কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, উৎপাদন ও বাজারজাতের অনুমোদন রয়েছে কি না এবং পণ্যের গুণগত মান কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে—এসব বিষয়ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিনে দেখা প্রয়োজন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি লাইসেন্স ও অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, তা যাচাই করা হবে। অনুমোদনের বাইরে কোনো কার্যক্রম চলছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

সব মিলিয়ে আল-মামুন এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের পরিবেশগত অনুমোদন, জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহার, মাছের খাবার উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ ও বাজারজাতকরণ—এই বিষয়গুলো নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরা হোক। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন

Google-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

Google-এ পড়ুন লাখোকণ্ঠের খবর 

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০