
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে। তার দাবি, এর মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নথি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণের’ পরিধি ঠিক কতটা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত স্পষ্ট নয়। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতারা জানিয়েছেন, চুক্তিটি তাদের ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে স্বীকৃতি দেবে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটি স্থাপন ও কিছু সংবেদনশীল বিনিয়োগের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের কথা বলা হয়েছে। তবে এসব ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। প্রায় ৫৬ হাজার মানুষের এই দ্বীপটি ভৌগোলিক ও সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ইতোমধ্যে একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। নতুন সমঝোতার মাধ্যমে এই উপস্থিতি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেছেন, প্রস্তাবিত চুক্তি গ্রিনল্যান্ডের স্বার্থ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় তাদের অবস্থান এবং জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। ডেনমার্কও জানিয়েছে, চুক্তিটি স্বাক্ষরের পর প্রয়োজনীয় সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
এর আগে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। নতুন সমঝোতা সেই উত্তেজনা কমানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত প্রকাশ এবং ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সংসদীয় অনুমোদনের পরই এর বাস্তব প্রভাব স্পষ্ট হবে।
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :