“হাতকড়া নয়, লাল গোলাপ: বদলের বার্তা জলঢাকায়”


প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
“হাতকড়া নয়, লাল গোলাপ: বদলের বার্তা জলঢাকায়”

মোঃ ছাইয়াদুল ইসলাম, নীলফামারী: নীলফামারীর জলঢাকায় মাদকের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জলঢাকা থানা পুলিশ। জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলমের আহ্বানে মুচলেকা দিয়ে আত্মসমর্পণ করছেন মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে ১৮ জন মাদক ব্যবসায়ী এই পথ থেকে সরে এসে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

থানা সূত্র জানায়, সম্প্রতি সাত দিনের সময়সীমা দিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণের নোটিশ দেওয়া হয়। পুলিশের প্রাথমিক তালিকায় জলঢাকা উপজেলায় মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীর সংখ্যা ৭৮ জন উল্লেখ করা হয়েছে। বিট অফিসার, গ্রাম পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তালিকাটি আরও হালনাগাদ হতে পারে বলেও জানিয়েছে জলঢাকা থানার ওসি নাজমুল আলম।

আত্মসমর্পণকারীদের থানায় ডেকে নিয়ে মুচলেকা নেওয়া হচ্ছে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসায় তাদের লাল গোলাপ দিয়ে বরণ করে নিচ্ছেন ওসি নাজমুল আলম। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি অপরাধীদের সমাজে পুনর্বাসনের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয়রা।

ওসি নাজমুল আলম কয়েকটি প্রশ্নের জবাবে লাখো কণ্ঠকে কে বলেন, “মাদক একটি ভয়াবহ সামাজিক সমস্যা। শুধু আইন প্রয়োগ করে এটি নির্মূল করা সম্ভব নয়। তাই আইনের পাশাপাশি সামাজিকভাবে তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যারা আন্তরিকভাবে ফিরে আসতে চায়, তাদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, যারা এখনো আত্মসমর্পণ করেননি, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে যারা মুচলেকা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন, তাদের ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। পুনরায় মাদকের সঙ্গে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে আত্মসমর্পণকারীদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করতে বিভিন্ন এনজিও, দানশীল ব্যক্তি ও সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পুলিশের এই উদ্যোগে এলাকায় ইতিবাচক সাড়া মিলছে। প্রথমে দু-একজন আত্মসমর্পণ করলেও এখন প্রতিদিনই বাড়ছে সেই সংখ্যা। স্থানীয়দের মতে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিক এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে মাদক নির্মূলে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বান্দরবান সেনা জোনের উদ্যোগে ৫০০ পরিবার ও এতিমখানায় সেহরি-ইফতার সামগ্রী বিতরণ

আর্কাইভ