রাঙামাটিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের নতুন ভবন: সংস্কৃতি চর্চা ও পর্যটনে যুক্ত হবে নতুন সম্ভাবনা


রাঙামাটি প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ ১০৭
রাঙামাটিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের নতুন ভবন: সংস্কৃতি চর্চা ও পর্যটনে যুক্ত হবে নতুন সম্ভাবনা

রাঙামাটিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের নতুন ভবন নির্মাণকে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এই ভবন নির্মিত হলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভাষা সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি পর্যটন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

রাঙামাটি গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটি অফিস-কাম মাল্টিফাংশনাল ভবন নির্মাণ” প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫ কোটি ৫৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। ২০২৫ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের আওতায় চারতলা প্রশাসনিক ভবন, আধুনিক অডিটোরিয়াম, সিনেপ্লেক্স, প্রশিক্ষণ কক্ষ, মিনি কনফারেন্স রুম, ডরমিটরি নির্মাণের পাশাপাশি সাবস্টেশন, জেনারেটর, সীমানা প্রাচীরসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে মূল প্রশাসনিক ভবনের ছাদ ঢালাই কাজ চলমান রয়েছে এবং অডিটোরিয়াম অংশের ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে।

ইনস্টিটিউটের সঙ্গীত বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, বর্তমানে অডিটোরিয়ামের অভাবে সঙ্গীত প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। নতুন ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হলে সঙ্গীত চর্চার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।
নৃত্য বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, অডিটোরিয়াম না থাকায় নৃত্য প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন জাতীয় ও সাংস্কৃতিক দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করতে জায়গার সংকট দেখা দেয়। নতুন ভবন চালু হলে এসব সমস্যা দূর হবে।
সঙ্গীত বিভাগের প্রশিক্ষক শেখর মল্লিক বলেন, নতুন ভবন ও অডিটোরিয়াম যত দ্রুত নির্মাণ শেষ হবে, তত দ্রুত প্রশিক্ষণার্থীরা আধুনিক পরিবেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাবে।

নৃত্য বিভাগের প্রশিক্ষক সুফলা তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, শিল্পীদের জন্য একটি আধুনিক হলরুম ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অত্যন্ত প্রয়োজন। ভবনটি দ্রুত সম্পন্ন হলে শুধু শিল্পীরাই নয়, পুরো রাঙামাটিবাসী এর সুফল ভোগ করবে।

রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক জিতেন চাকমা বলেন, ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইনস্টিটিউটটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য ও গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নতুন ভবন নির্মিত হলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং রাঙামাটির অসাম্প্রদায়িক ও সংস্কৃতিমনস্ক পরিচয় আরও সমৃদ্ধ হবে।তিনি বলেন, পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটকে বাংলাদেশের জাতিগত বৈচিত্র্যের অন্যতম অনন্য নিদর্শন হিসেবে দেশ-বিদেশে তুলে ধরা সম্ভব হবে।নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে জেলার দীর্ঘদিনের অডিটোরিয়াম সংকট অনেকটাই দূর হবে। এখানে প্রশিক্ষণ কক্ষ, মিনি কনফারেন্স রুম এবং দেশি-বিদেশি শিল্পীদের থাকার জন্য ডরমিটরির ব্যবস্থা থাকবে।

রাঙামাটি গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শর্মি চাকমা বলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে চারতলা প্রশাসনিক ভবন, অডিটোরিয়াম এবং একটি সিনেপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভাষা সংরক্ষণের পাশাপাশি রাঙামাটির পর্যটন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ হবে এবং জেলার সাংস্কৃতিক বিকাশে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১