কুষ্টিয়ায় জোড়া লাগানো যমজ শিশুর চিকিৎসা অনিশ্চিত, আর্থিক সংকটে পরিবার


সামরুজ্জামান (সামুন), কুষ্টিয়া প্রকাশের সময় : ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ ৬১
কুষ্টিয়ায় জোড়া লাগানো যমজ শিশুর চিকিৎসা অনিশ্চিত, আর্থিক সংকটে পরিবার

জন্মের পর থেকেই একই শরীরে দুটি জীবন। বুক থেকে পেট পর্যন্ত জোড়া লাগানো যমজ কন্যাশিশু জয়নব ও উম্মে কুলসুমের প্রতিটি নড়াচড়া, প্রতিটি কষ্ট যেন একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের আলাদা করা সম্ভব হতে পারে। তবে আর্থিক সংকটে সেই চিকিৎসা এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামের বাসিন্দা নাহিদ হাসান ও সানজিদা আক্তার দম্পতির ঘরে গত ৪ মে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশু দুটির জন্ম হয়। বর্তমানে তাদের বয়স প্রায় তিন মাস।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশু দুটির দুধ, ওষুধ ও প্রাথমিক চিকিৎসার খরচ বহন করতেই তারা হিমশিম খাচ্ছেন। শিশুদের বাবা নাহিদ হাসান একসময় রাজধানীর একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। বর্তমানে কুষ্টিয়ায় একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে মাসে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করেন। এই আয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

নাহিদ হাসান বলেন, “চিকিৎসকেরা বলেছেন, আমার দুই মেয়েকে আলাদা করা সম্ভব। কিন্তু সেই চিকিৎসার খরচ বহন করার সামর্থ্য আমার নেই। এখন তাদের দুধের টাকাই জোগাড় করতে কষ্ট হচ্ছে।”

পরিবার জানায়, শিশু দুটিকে আলাদা করার আগে একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন। জন্মের তিন মাস পর তাদের আবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু অর্থাভাবে এখনো সেখানে যেতে পারেনি পরিবারটি।

মা সানজিদা আক্তার বলেন, “ওদের আলাদাভাবে কোলে নেওয়া যায় না। একজন নড়লেই অন্যজন কষ্ট পায়। নিয়মিত ঢাকায় চিকিৎসার জন্য যেতে হবে, কিন্তু যাতায়াত ও পরীক্ষার খরচ জোগানোর সামর্থ্য আমাদের নেই।”

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান (তুহিন) বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত পরবর্তী চিকিৎসা শুরু করা জরুরি। যথাসময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে থাকলে শিশু দুটির সফল চিকিৎসার সম্ভাবনা আরও বাড়বে।

প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চাওয়া হবে।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরের মাধ্যমে দ্রুত আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি শিশু দুটির চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ চলছে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১