
তবে একই সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট ও বেকারত্বে জর্জরিত পাকিস্তানে তেমন কোনো বৃহৎ তরুণ আন্দোলন না হওয়ায় প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা।
পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি গণআন্দোলনের জন্য অনুকূল বলেই মনে করেন অনেক পর্যবেক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর ঋণনির্ভর অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি উচ্চ বেকারত্ব, দুর্নীতির অভিযোগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় সেনাবাহিনীর শক্তিশালী প্রভাবও জনঅসন্তোষের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তবুও এসব ইস্যুকে কেন্দ্র করে তরুণদের নেতৃত্বে বড় ধরনের আন্দোলন এখনও গড়ে ওঠেনি।
বিদেশনীতি বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তরুণদের নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবিতে গণআন্দোলন হলেও পাকিস্তানে কেন একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে না। তার মতে, দুর্নীতি, দমন-পীড়ন, বেকারত্ব এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মতো যে সমস্যাগুলো অন্য দেশগুলোতে আন্দোলনের কারণ হয়েছে, পাকিস্তানেও সেগুলো সমানভাবে বিদ্যমান।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের তরুণ সমাজ রাজনীতি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন নয়।
ভারতের সাম্প্রতিক আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক পাকিস্তানি তরুণ আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে নিজেদের দেশে এ ধরনের সংগঠিত প্রতিবাদ গড়ে না ওঠার বিষয়েও হতাশা প্রকাশ করেন অনেকে।
পাকিস্তানের ইতিহাসে অবশ্য রাষ্ট্রবিরোধী আন্দোলনের নজির রয়েছে। জিয়াউল হকের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন, পারভেজ মোশাররফ আমলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার দাবিতে আইনজীবীদের আন্দোলন, পাশাপাশি বেলুচিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিভিন্ন নাগরিক কর্মসূচি তার উদাহরণ। তবে এসব আন্দোলন দীর্ঘমেয়াদি ছাত্রনেতৃত্বাধীন জাতীয় গণআন্দোলনে রূপ নিতে পারেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানে ছাত্ররাজনীতির দুর্বল সাংগঠনিক ভিত্তি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বর্তমান পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। ১৯৮০-এর দশকে জেনারেল জিয়াউল হকের শাসনামলে ছাত্র ইউনিয়নের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলো আর আগের অবস্থানে ফিরতে পারেনি। ফলে সময়ের সঙ্গে তরুণদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা কমেছে এবং সংগঠিত ছাত্র আন্দোলনের ভিত্তিও দুর্বল হয়েছে।
এ কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোতে তরুণদের নেতৃত্বে যেভাবে বড় ধরনের রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে উঠেছে, পাকিস্তানে আপাতত সেই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা সীমিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :