
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে উথলী রেলস্টেশন ব্যবহারকারী যাত্রী ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি চলাকালে বিকেল ৫টার দিকে খুলনাগামী ৭২৮ ডাউন রূপসা এক্সপ্রেস স্টেশনে পৌঁছালে আন্দোলনকারীরা ট্রেনটি কয়েক মিনিট স্টেশনে আটকে রেখে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে বিকেল ৫টা ১৩ মিনিটে ট্রেনটি পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের অধিকাংশ উপজেলা পর্যায়ের রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি থাকলেও জনগুরুত্বপূর্ণ উথলী রেলস্টেশন এখনো সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত। জীবননগর উপজেলার দুটি রেলস্টেশনের মধ্যে বর্তমানে উথলীই একমাত্র সচল স্টেশন। এখানে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ চালু হলে জীবননগরবাসীর পাশাপাশি মহেশপুর ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে রেলওয়ের যাত্রীসংখ্যা ও আয়ও বাড়বে বলে দাবি করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, উথলী রেলস্টেশনে ইতোমধ্যে ১ হাজার ২০০ ফুট দীর্ঘ আধুনিক প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ করা হয়েছে, যা আশপাশের স্টেশনগুলোর মধ্যে অন্যতম দীর্ঘ। এছাড়া স্টেশন এলাকায় নিরাপত্তাজনিত কোনো ঝুঁকি নেই। ফলে এখানে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু করতে কোনো বাস্তব সমস্যা নেই।
মানববন্ধনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, গণমাধ্যমকর্মী, দিনমজুরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় এক হাজার মানুষ অংশ নেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকা, যশোর, খুলনা ও রাজশাহী রুটে যাতায়াতের জন্য বেনাপোল এক্সপ্রেস ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসই সবচেয়ে সুবিধাজনক ট্রেন। কিন্তু উথলী স্টেশনে এসব ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় যাত্রীদের দর্শনা স্টেশনে গিয়ে ট্রেনে উঠতে হয়। এতে অতিরিক্ত সময়, খরচ ও দুর্ভোগের শিকার হতে হয়।
মানববন্ধন থেকে রেল কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত উথলী রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু, যাত্রীছাউনি নির্মাণ, ফুটওভারব্রিজ স্থাপন এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :