চুয়াডাঙ্গায় বর্ষায় জমে উঠেছে মাছ ধরার ‘বিত্তি’ বাজার


শিমুল রেজা, চুয়াডাঙ্গা প্রকাশের সময় : ২১ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৮ অপরাহ্ণ ৩৭
চুয়াডাঙ্গায় বর্ষায় জমে উঠেছে মাছ ধরার ‘বিত্তি’ বাজার

বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই চুয়াডাঙ্গায় জমে উঠেছে দেশীয় মাছ ধরার ঐতিহ্যবাহী ফাঁদ ‘বিত্তি’র বাজার। টানা বৃষ্টিতে জেলার খাল-বিল, নদী, বাওড়, ডোবা ও নিম্নাঞ্চল পানিতে ভরে যাওয়ায় দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ ধরতে বিত্তির চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে। ফলে জেলার প্রায় ২০০ পরিবার এখন বিত্তি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে।

এ বছর গত কয়েক বছরের তুলনায় চুয়াডাঙ্গায় বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় বর্ষার শুরু থেকেই পানিতে ভরে গেছে মাঠ-ঘাট। নতুন পানিতে পুঁটি, টেংরা, শিং, টাকি, চিংড়ি, বাইন, পাকাল তোড়া, কাটরাসহ নানা প্রজাতির দেশীয় মাছের বিচরণ বেড়েছে। এ সুযোগে গ্রামের মানুষ দলবেঁধে মাছ ধরতে নামছেন। আর সেই সঙ্গে বেড়েছে বিত্তি ও বিভিন্ন ধরনের জালের চাহিদা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌরসভার রামনগর কালিদাসপাড়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় নারী-পুরুষ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিত্তি তৈরিতে ব্যস্ত। স্থানীয় বাজারে প্রতিটি বিত্তি আকারভেদে ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের একটি বাঁশ থেকে চার থেকে ছয়টি বিত্তি তৈরি করা যায়।

কারিগররা জানান, বিত্তি তৈরিতে বাঁশের চিকন কঞ্চি, তালগাছের আঁশ এবং নাইলনের সুতা ব্যবহার করা হয়। প্রথমে বাঁশ কেটে সরু কাঠি তৈরি করা হয়। এরপর কয়েক দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখা তালগাছের ডালের আঁশ সংগ্রহ করে সেগুলো দিয়ে নিপুণ হাতে বোনা হয় মাছ ধরার এই ঐতিহ্যবাহী ফাঁদ।

দামুড়হুদা উপজেলার ডুগডুগি পশুহাট ও জীবননগরের শিয়ালমারি পশুহাটে পাইকারি ও খুচরা উভয়ভাবেই বিত্তি বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বর্ষা এলেই বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অনেক নতুন মানুষও এ পেশার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।

শিয়ালমারি পশুহাটের ব্যবসায়ী নাসের আলী বলেন, “আমাদের দাদার আমল থেকেই এ ব্যবসা করছি। বর্ষা যত ভালো হয়, বিত্তির বিক্রিও তত বাড়ে। এবার চাহিদা অনেক বেশি।”

বিত্তি তৈরির কারিগররা বলেন, বর্ষাকালেই মূলত তাদের আয়-রোজগারের মৌসুম। বছরের অন্য সময় কাজের সুযোগ কম থাকে। তারা এ শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা, বিশেষ করে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণের দাবি জানান।

ডুগডুগি পশুহাটে বিত্তি কিনতে আসা ফারুক হোসেন বলেন, “আগাম বৃষ্টিতে মাঠ ও বিল পানিতে ভরে গেছে। অনেকেই এখন মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন। তাই বিত্তির চাহিদা বেড়েছে।”

আরেক ক্রেতা আনিসুর রহমান বলেন, “বর্ষায় নদী-খাল-বিল একাকার হয়ে যায়। তখন দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ সহজেই বিত্তিতে ধরা পড়ে।”

চুয়াডাঙ্গা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফরহাদুর রেজা বলেন, “এ বছর বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় খাল-বিল ও জলাশয়ে দেশীয় মাছের পরিমাণ বেড়েছে। ছোট মাছ ধরার জন্য বিত্তির ব্যবহার বেশি হয়। ফলে স্থানীয়ভাবে তৈরি এই উপকরণের চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্ষা মৌসুমের সঙ্গে এ কুটিরশিল্পের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।”

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন

Google-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

Google-এ পড়ুন লাখোকণ্ঠের খবর 

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১